ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বার্লিনে উৎসবের ভিড়ে গাড়িচাপায় নিহত ১, আহত ১৭

বার্লিনে উৎসবের ভিড়ে গাড়িচাপায় নিহত ১, আহত ১৭
×

বার্লিনে প্রাইড উৎসবের কাছে গাড়িচাপার ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম। ছবি:রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩২ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৭

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ (সিএসডি) উৎসব চলাকালে ভিড়ের মধ্যে একটি গাড়ি উঠে গেলে একজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের তিনজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর সন্দেহভাজন চালক পালিয়ে গেলে তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত ১০টার দিকে (স্থানীয় সময়) ব্রান্ডেনবুর্গ গেটসংলগ্ন টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে একাধিক ব্যক্তিকে চাপা দেওয়ার পর একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। ঘটনাস্থলে গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় বার্লিন পুলিশ শহরজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার সময়কার ছবি ও ভিডিও চেয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।

পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে ২৫০টিরও বেশি যানবাহন প্রতিরোধক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এত কড়াকড়ির মধ্যেও কীভাবে একটি গাড়ি ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করল, সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়।

হতাহতের পর আয়োজকরা অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের পাশের মঞ্চের বড় পর্দায় ‘এলাকা খালি করুন’ বার্তা দেখানো হয় এবং উপস্থিত সবাইকে শান্তভাবে স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জুলিয়ান মিয়েথিগ বলেন, ‘কুইয়ার সম্প্রদায়ের জন্য এটি ভয়াবহ একটি দিন। এমন ঘটনা কখনো দেখতে চাইনি। আমি স্তম্ভিত।’

জার্মানিতে প্রতি বছর ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ উপলক্ষে লাখো মানুষ সমবেত হন। ১৯৬৯ সালের নিউইয়র্কের স্টোনওয়াল বিদ্রোহের স্মরণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং বৈষম্যবিরোধী দাবিতে শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে পশ্চিম বার্লিনে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এ আয়োজন বর্তমানে দেশটির অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস একে ‘ভয়াবহ একটি ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে তিনি বলেছেন, ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিয়মিত তথ্য পরিস্থিতি জানাচ্ছি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মে মাসে লাইপজিগে এমন ঘটনায় দুজন নিহত হন। এর আগে ম্যানহাইম, মিউনিখ এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যাগডেবার্গের একটি ক্রিসমাস মার্কেটেও একই ধরনের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন

×