সেউতায় অভিবাসীর ঢল কূটনৈতিক সংকটে ফেলেছে স্পেনকে
ছবি: রয়টার্স
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১০:২৩
উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এবং সীমান্ত প্রাচীর টপকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে প্রবেশ করে। স্প্যানিশ ও মরক্কো কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে অন্তত ৬৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সব মিলিয়ে কূটনৈতিক চাপে পড়েছে স্পেন। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৪৮ হাজারের বেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছে।
নেপথ্যে দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক বিরোধ
স্পেনের দাবি, মরক্কোর সীমান্তরক্ষীদের নিষ্ক্রিয়তা এ ঘটনাকে উৎসাহিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তরক্ষীদের নিষ্ক্রিয়তার পেছনে রয়েছে মরক্কো, আলজেরিয়া ও স্পেনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ। প্রায় পাঁচ দশক আগে স্পেন যখন পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়, তখন থেকেই এই ভূখণ্ডটি নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়া সমর্থিত স্বাধীনতাকামী দল পোলিসারিওর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। ইউরোপ দীর্ঘদিন এই ইস্যুতে নিরপেক্ষ থাকলেও স্পেনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ মরক্কোকে ক্ষুব্ধ করেছে।
এদিকে ২০২২ সালে স্পেন মরক্কোকে সমর্থন দেওয়ায় আলজেরিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছিল। সেই সম্পর্ক জোড়া লাগাতে সম্প্রতি আলজেরিয়া গিয়েছিলেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী। তবে মরক্কো এই সফরকে সহজভাবে নেয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এবার সীমান্তে নিষ্ক্রিয় ছিল মরক্কো।
আদালতের রায়কে দায়ী করেছেন সানচেজ
এই সংকটের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং মানব পাচারকারীদের দায়ী করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সম্প্রতি দেশটির আদালত রায় দেন, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর সময় আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো যাবে না। এই রায়ের ফলে আটকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। মানব পাচারকারীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে বলে দাবি তাঁর।
সাগরে ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেউতার তারাজাল ব্রেকওয়াটার সীমান্তে ৫০০ মিটারের ভাসমান ব্যারিয়ার স্থাপন শুরু করেছে স্পেন। ব্যারিয়ারের মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হয়েছে যাতে সিভিল গার্ডের জাহাজগুলো ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দিতে পারে। সৈকত ও সীমান্ত এলাকাগুলোতে স্প্যানিশ সেনা ও পুলিশের কড়া টহল চলছে।
ইউরোপজুড়ে বিভেদ
সেউতার এই বিশৃঙ্খলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে। স্পেনের সঙ্গে ইউরোপের পাসপোর্টমুক্ত শেনজেন চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এই পদক্ষেপকে ইইউ চুক্তির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে মাদ্রিদ। এ ছাড়া ইইউর ২২টি দেশ জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে এবং ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে স্পেনের সীমান্ত সুরক্ষায় সহায়তার অনুরোধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই পরিস্থিতিকে ‘আক্রমণের মতো’ দেখছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানরা জয়ী না হলে সেখানে এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে।