অভিযাত্রা
২৯ দিনে আট দেশ, দুই হাজার কিলোমিটার পাড়ি
সোফি উডস, যিনি সোফি গ্র্যান্ট নামেও পরিচিত সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাত্র ২৯ দিনে আট দেশ ও দুই হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন আলট্রা-রানার সোফি উডস। সবচেয়ে কম সময়ে ভিয়া আলপিনা পথ পাড়ি দেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যেই এত দীর্ঘ পথ দৌড়ে পাড়ি দিয়েছেন তিনি।
ভিয়া আলপিনা মূলত ইউরোপের আল্পস পর্বতমালাজুড়ে থাকা একটি বিখ্যাত পথ। এটি বেশ বিস্তৃত ও দীর্ঘ। পাশাপাশি অনেক দিক থেকে এ পথ দিয়ে চলাচল করা কষ্টকরও। এসব কারণে এটি অ্যাথলেটদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ভিয়া আলপিনা পথটি পাড়ি দেওয়া এতটাই কঠিন যে হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র তা সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
সোফি উডস যে পরিমাণ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তা ১২ বার মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করার সমতুল্য। এর আগে সবচেয়ে স্বল্প সময়ে এই পথটি পাড়ি দেন ব্রিটিশ দৌড়বিদ জেক ক্যাটারল। তিনি ২০২৪ সালে ৩৫ দিনে ভিয়া আলপিনা পার হয়েছিলেন।
৪২ বছর বয়সী সোফি উডস সে রেকর্ড ভাঙতে গত ৪ জুলাই ইতালি থেকে দৌড় শুরু করেন। স্লোভেনিয়া, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, লাইখটেনস্টাইন, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স হয়ে ভূমধ্যসাগর উপকূলের মোনাকোতে গত শনিবার এ দৌড় শেষ হয়।
এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বৈরী আবহাওয়াও এড়াতে পারেননি উডস। দুটি দাবদাহ, ঝড়, দাবানলের মতো জটিলতার মুখে পড়েছেন তিনি ও তাঁর টিম। দাবানলের কারণে পূর্বনির্ধারিত পথ থেকে ঘুরে আরও পাঁচ কিলোমিটার বেশি দৌড়াতে হয়েছে তাঁর। বিকল্প পথে দুইশ মিটারের মতো উঁচুতেও উঠতে হয়েছিল।
শেষের কয়েক দিন তিনি ঠিকভাবে ঘুমাতেও পারেননি। কারণ সময় ফুরিয়ে আসছিল। তাঁর ভাষ্যে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। সোফি উডস বলেন, ‘কিছু কিছু সময় আমার মনে হয়েছিল যে, আমি জানি না কীভাবে এটি শেষ করব। আমি কখনও থামতে চাইনি, তবে এর ব্যাপকতা মাঝেমধ্যে আমাকে বিহ্বল করে তুলেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি হয়তো সবচেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারি না, তবে আমি জানি কীভাবে পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয় এবং সব যখন ব্যথা করে, তখনও কীভাবে চালিয়ে নিতে হয়।’ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সোফি উডস বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহটি ভয়ংকর ছিল, সব ফুলে গিয়েছিল, সব জায়গায় ব্যথা ছিল। দ্বিতীয় সপ্তাহও ভালো যায়নি। তবে তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করে।’
দৌড়ের সময় ইতালিতে দাবানল দেখা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এর আগেও দাবানলের কাছে গিয়েছি এবং সেগুলো ভয়ংকর। এ কারণে আমি, আমার ক্রু বা কেউই ওই আগুনের মধ্যে যেতে চাইনি। আমরা এর বদলে একটা খসড়া পরিকল্পনা করি যে বিকল্প পথটা কেমন হতে পারে। পথে যেতে যেতে অনেক কিছুই বদলাতে হয়েছিল। আমাদের সব হিসাব ভুল হয়েছিল, প্রতিটা দিন দীর্ঘ ছিল এবং উচ্চতাতেও উঠতে হয়েছে।’
তবে সোফি উডস ভিয়া আলপিনা পাড়ি দিতে ৩০ দিনের বেশি সময় নিতে চাননি। তাঁর মতে, তাঁর জন্য ৩০ দিনই যথেষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম যে আমি দৃঢ় ও সক্ষম। তবে এটি আমাকে সীমার বাইরে নিয়ে পরীক্ষা করেছে।’ আলট্রা-রানিংয়ে প্রচুর প্রস্তুতি ও মানসিক শক্তির প্রয়োজন পড়ে বলে উল্লেখ করেন সোফি। আপাতত তাঁর আর এ রকম কোনো দৌড়ে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নেই। ঘরে বসে নেটফ্লিক্স দেখেই দিন কাটাতে ইচ্ছুক তিনি।