গবেষণা
বিশ্বে প্রথমবার এআই দিয়ে জিনোম তৈরি
যেসব ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিকে সারে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে নতুন এই পন্থা। ছবি: বিবিসি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৩২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ভাইরাস তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে প্রথমবারের মতো এআই দিয়ে সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ জিনোম তৈরি হলো। সব মিলিয়ে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করতে সক্ষম, তবে মানুষের জন্য এতে কোনো ঝুঁকি নেই।
বিষয়টি যুগান্তকারী বলে ধরা হচ্ছে এবং বিজ্ঞান খাতের ‘অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য মোড় পরিবর্তনকারী’ ঘটনাও মনে করা হচ্ছে। এটি রোগ সারাতে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই দিয়ে তৈরি ভাইরাস সুরক্ষা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বৃদ্ধি করছে।
বিবিসির খবর বলছে, এআই টুল প্রতিনিয়ত আধুনিক হচ্ছে এবং এরই মধ্যে এ ধরনের টুল দিয়ে নিত্যনতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়েছে। তবে একেবারে গোড়া থেকে কর্মক্ষম ভাইরাস গড়ে তোলার তুলনায় সেগুলো তুলনামূলক সহজ।
এ প্রসঙ্গে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপত ব্রায়ান হিয়ে বলেন, ‘এটি জটিলতার পরবর্তী ধাপ, যা জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ জিনোম তৈরিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হলো। এটি এমন কিছু যা কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে পারে। এটি আমাদের জন্য নতুন একটি দিক।’
যে এআই প্রযুক্তি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে, সেটি চ্যাটজিপিটির মতোই কাজ করে। তবে চ্যাটজিপিটি যেখানে শব্দ নিয়ে কাজ করে, সেখানে ইভো১ ও ইভো২ নামের এআই মডেল দুটি কাজ করে জীবন নিয়ে। এই দুটি এআই মডেলকে প্রথমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জেনেটিক কোড দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলোর ডেটা পরিশোধন করে ব্যাকটিরিওফেজ ধরনের ভাইরাস তৈরি করতে বলা হয়। এটি শুধু ব্যাকটেরিয়াকেই আক্রমণ করতে সক্ষম। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা এআইর দেওয়া সবচেয়ে ভালো ৩০২টি ডিজাইন নিয়ে সেগুলোর মধ্য থেকে ১৬টি ভাইরাস তৈরি করেন। তারা যে ভাইরাসটি তৈরি করেছেন, তা মূলত ই.কোলি ব্যাকটেরিয়াকে হত্যা করতে সক্ষম।
গবেষণাগারের এক পিএইচডি শিক্ষার্থী স্যামুয়েল কিং জানান, তারা সকালের প্রথম ঘণ্টাগুলোতে টের পান, ওই ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার ওপর কাজ করতে শুরু করেছে। এ পর্যায়ে ভাইরাসকে ব্যাকটেরিয়ার একটি আস্তরের ওপর রাখা হয়। বিজ্ঞানীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন– নতুন ভাইরাসটি ঠিক কতটা দ্রুত কাজ করছে।
এ ধরনের ফেজ বা ভাইরাস তৈরি করে নতুন এক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। মানবদেহের যেসব সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিকে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং এ ধরনের ওষুধে আর কাজ হয় না, সেগুলো সারানোর নতুন পথ এভাবে খতিয়ে দেখতে পারবেন গবেষকরা।
অন্যদিকে এআই দিয়ে এভাবে জিনোম তৈরির বিষয়টি প্রাকৃতিক বিষয়াদির চিরচেনা গণ্ডিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ‘সিনথেটিক বায়োলজি’ বলে পরিচিত খাতের জন্য এটি যুগান্তকারী একটি মুহূর্ত। গবেষক হিয়ের দাবি, নতুন নতুন ওষুধ ও থেরাপি তৈরির মাধ্যমে এটি ব্যাপকভাবে মানবস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে এরই মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, একই প্রযুক্তি ও পন্থা ব্যবহার করে নতুন নতুন রোগও তৈরি করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে সায়েন্স সাময়িকীতে সেন্টার ফর হেল্থ সিকিউরিটি অ্যাট জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ডক্টর মরিটজ হ্যানকে ও ডক্টর টমাস ইঙ্গলসবে বলেন, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে জৈব সুরক্ষা ও জৈব নিরাপত্তার বিষয় সামনে নিয়ে আসছে। জেনারেটিভ এআই জিনোম তৈরি করা সম্ভব কিনা– এটি আর প্রশ্ন নয়। এখন নতুন প্রশ্ন হলো, গুরুতর ক্ষতি এড়িয়ে এটি ব্যবহার করা সম্ভব কিনা।
- বিষয় :
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা