জুলাইয়ের পর তীব্র সংঘাত
যে কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত অন্তত ১২
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাইয়ের পর আবারও গতকাল বুধবার বড় মাপে হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সমাধানের পথগুলো দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কী কৌশল হাতে নিচ্ছে?
গত সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলের ট্যাঙ্কার নিরাপদে বের করে আনার কৌশল হাতে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ত্রিতা পারসি বলেন, ‘কিছু সময় পর পর একটি দেশে হামলা চালানো মানে স্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। এর বাইরে আর কোনো পথ খোলা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিকভাবে বা কূটনৈতিকভাবে এই ইস্যুর সমাধানের আশা ছেড়ে দিয়েছে এবং এর বদলে স্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে সমস্যাকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের সঙ্গে ‘পরিকল্পিত’ সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকরা এটিও বলছেন যে, এভাবে ইরানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চাপের মুখে রাখা সম্ভব নয়।
পাল্টাপাল্টি হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রেভল্যুশনারি গার্ডের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সিস্টেম, সামুদ্রিক সম্পদ, মাইন স্থাপন সক্ষমতা ও যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক লক্ষ্যে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইরান।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছেন সিরিক অঞ্চলে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাব ইরান দিয়েছে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে হামলা চালিয়ে। ইরানের সামরিক কমান্ড বলেছে, ‘অঞ্চলে আমেরিকান শয়তানদের আরও ভারী, বিস্তৃত ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের সহযোগিতাকারী দেশকে বিপজ্জনক পরিণতি মেনে নিতে হবে।’
ইরানের দাবি, জর্ডানে তারা যে হামলা চালিয়েছে, তাতে মার্কিন বাহিনীর কয়েক সদস্য নিহত হয়েছেন।
য়েতে হামলা প্রসঙ্গে ইরান জানায়, সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলায় এক মার্কিন কমান্ডারের বাসস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস উত্তর ইরাকের ইরবিলেও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। সেখানে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে ইরাক বা যুক্তরাষ্ট্র– কেউই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি। ইরান আরও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাঙ্কার মাইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ‘বন্ধ ঘোষিত’ এক পথ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
- বিষয় :
- ইরানে হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র