সীতাকুণ্ডে বিএনপির সংঘর্ষ
অস্ত্রধারী কেউ কেউ ভাড়ায় আসে মিরসরাই থেকে
মামলা নেই, গ্রেপ্তার নেই, পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক
সারোয়ার সুমন ও সেকান্দর হোসাইন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাঞ্জাবি পরে লাইট মেশিনগান (এলজি) হাতে দৌড়াচ্ছেন এক যুবক। ওপরের দিকে একের পর এক গুলি ছুড়ছেন তিনি। মাথায় পট্টি, লাল টিশার্ট পরা আরেক যুবকও ছুড়ছেন গুলি। একই ভঙ্গিতে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে আরও দুজনকে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দিনেদুপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের হয়ে পুলিশের সামনে গত মঙ্গলবার অস্ত্রের মহরা দেয় তারা।
পাঞ্জাবি পরা অস্ত্রধারী যুবকের নাম সিরাজুল ইসলাম। তিনি সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা নন। মহরা দিতে তাঁকে ভাড়ায় আনা হয়েছিল পাশের উপজেলা মিরসরাই থেকে। তিনি ওই উপজেলার ১৪ নম্বর হাইতকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মির্জাবাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। লাল টিশার্ট পরা অস্ত্রধারী যুবকের বাড়ি সীতাকুণ্ডেই। তাঁর নাম মো. সাদেক। তিনি উপজেলার মহালঙ্কা এলাকার মৃত মো. হাসেমের ছেলে।
অস্ত্রের মহরা ও সংঘাতের ঘটনায় উভয় গ্রুপের এক ডজনেরও বেশি নেতাকর্মী আহত হন। তবে অস্ত্রধারী কাউকেই গতকাল বুধবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের হয়নি কোনো মামলাও। অথচ পুলিশের সামনেই একটি পিকআপ থেকে এসব অস্ত্র নামিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অংশ নেয় তারা।
মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা কাজী সালাউদ্দিন বলছেন, ভাড়ায় আনা এসব অস্ত্রধারী আসলাম চৌধুরীর লোক। তাঁর সঙ্গে এসব অস্ত্রধারীর ছবিও রয়েছে। এমন কিছু ছবি সমকালের হাতেও এসেছে। আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘অস্ত্রধারী সবাই কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী। কোনো অস্ত্রধারীর সঙ্গে কখনোই আমার সম্পর্ক ছিল না।’
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অস্ত্রধারীদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
দলীয় বিরোধের সূত্রপাত যেভাবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর গত কোরবানির ঈদে আসলাম চৌধুরী নিজ বাড়িতে আগের আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ফের কমিটি গঠন করেন। দলের গঠনতন্ত্র ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ কাজী সালাউদ্দিনের। আগের কমিটিতে কাজীর অনুসারী যারা ছিলেন তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়েছেন আসলাম। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল কাজী গ্রুপের। তবে আসলাম নির্বাচনে জয়লাভ করায় সুবিধা করতে পারছিল না তারা। আদালত তাঁর শপথে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় চাঙ্গা হয় কাজী গ্রুপ।
নেপথ্যে এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ড আসনে এমপি পদে বেসরকারিভাবে জয়ী হন আসলাম চৌধুরী। আদালতের নির্দেশে এমপি পদে শপথ নিতে পারেননি তিনি। এই আসনের ফলাফল শূন্যও ঘোষণা করেন আদালত। নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এবার প্রার্থী হতে চান কাজী সালাউদ্দিন।
গতবার প্রথমে মনোনয়ন পাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারেননি তিনি।
দলীয় নির্দেশে ছাড় দিতে হয়েছে। বিষয়টি তখন মেনে নিলেও এবার মানতে নারাজ কাজী সালাউদ্দিন। এজন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন শক্তির মহড়া দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ফের নির্বাচনে আগ্রহী আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মাঠ ছাড়তে নারাজ।
- বিষয় :
- সংঘর্ষ