ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৫ বছর ধরে পাকিস্তানে, না ফেরা হলো দেশে, না বিয়ে, গুলিতে গেল প্রাণ

৩৫ বছর ধরে পাকিস্তানে, না ফেরা হলো দেশে, না বিয়ে, গুলিতে গেল প্রাণ
×

রমজান আলী

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫২

৩৫ বছর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রমজান আলী (৫১)। পাকিস্তানে বসেই বাংলাদেশ দূতাবাসে দেশে ফেরার জন্য আবেদন করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরবেন। দেশে এসে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন, বিয়ে করে সংসার পাতবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গত রোববার নিহত হয়েছেন তিনি।

রমজান আলী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। এরপর সেখানকার একটি টেক্সটাইল মিলে টানা ৩৫ বছর কাজ করেন। বিয়ে করেননি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন রমজান। এ জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেন তিনি। তাঁর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য দূতাবাস থেকে সীতাকুণ্ড থানায় তথ্য পাঠানো হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়।

নিহতের বোন মিলি আক্তার বলেন, দেশে স্বজনদের সঙ্গে রমজানের খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না। তবে মাঝে মাঝে মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর গত আট বছর ধরে দেশে থাকা ভাই-বোনদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।

তিনি বলেন, গত রোববার রাতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রমজান। সবকিছু ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল।

মিলি আক্তারের ভাষ্য, দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তাঁর ভাই। তাঁর জন্য পাত্রী খোঁজাও শুরু করেছিলেন বোনেরা।

মিলি বলেন, ‘ভাই বলেছিল, ৩৫ বছর পর দেশে এসে মা-বাবার কবর দেখবে, জিয়ারত করবে। দেশে এসে বিয়ে করে সংসার করবে—এমন ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু তার সেই আশা আর পূরণ হলো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের আর কোনো চাওয়া নেই। শুধু ভাইয়ের লাশটা দেশে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করতে চাই। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা ভাইয়ের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে পারব।’

বর্তমানে রমজানের গ্রামের বাড়িতে এক ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুন

×