বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গোলাগুলি
অস্ত্রধারীদের চেনে না পুলিশ, হয়নি মামলা
ছবি: সংগৃহীত
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:১৩
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের পর প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার একদিন পরও এসব ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে অস্ত্রধারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র প্রদর্শনকারীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অস্ত্রধারীদের অধিকাংশই ভাড়াটে সন্ত্রাসী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন চট্টগ্রাম শহর ও মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের অনুসারীরা পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল।
দুপুরে পৌর এলাকার হাসান গোমস্তা মসজিদসংলগ্ন মাইক্রো স্টেশন এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে সীতাকুণ্ড সদরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। ভিডিওগুলোর বেশির ভাগ দৃশ্য সীতাকুণ্ড পৌরসভার দক্ষিণ বাইপাস ও হাসান গোমস্তা মসজিদসংলগ্ন এলাকার বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।