নিদর্শন
সমুদ্রের তলদেশে দুই হাজার বছরের পুরোনো জাহাজ
জাহাজটিতে পাওয়া গেছে শত শত জার (ছবি-সংগৃহীত)
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পৃথিবীর বুকে এখনও লুকিয়ে আছে অনেক বিস্ময়। আর সেসব বিস্ময়ের অনেক কিছুই অতীতের নিদর্শন। এখনও অতীতের অনেক কিছুই মানুষের সামনে আসেনি। কখনও কখনও ঘটনাপ্রবাহে তা সামনে আসে, যা তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। সম্প্রতি সমুদ্র তলদেশে মিলেছে দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাচীন রোমের জাহাজ ছিল সেটি।
ইতালির সিসিলি থেকে একটু দূরে উপকূলে জাহাজটি খুঁজে পেয়েছেন ডুবুরিরা। মজার ব্যাপার হলো, ওখানে যে জাহাজ আছে, সেটি জানা ছিল না কারও। আচমকা এটি চলে আসে সবার সামনে।
শুধু যে জাহাজের কনটেইনার পাওয়া গেছে, তা নয়। এতে শত শত জার রয়েছে। দেখে মনে হয়েছে, কেউ যেন সযত্নে তা সাজিয়ে রেখেছিল। এক সময় এ ধরনের পাত্রে ওয়াইন ও জলপাই তেল বহন করা হতো; নিয়ে যাওয়া হতো এক দেশ থেকে আরেক দেশে।
ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ওই ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ঘটনায় সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি একে অভিহিত করেছেন সাম্প্রতিক বছরে সমুদ্র তলদেশে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে।
জাহাজটির খোঁজ সবার প্রথমে পান ইতালির জেলে গিয়েকোমো ডে মোলা। তিনি মাজারা ডেল ভালোর কাছে ডুব দিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই তাঁর সামনে ভেসে ওঠে জিনিসটির অবয়ব। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো পাথরের বড় খণ্ড হবে। তবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে টের পান এটি অন্য কিছু।
গিয়েকোমো ফিরে এসে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে দেশটির পুলিশের একটি বিশেষ ডুবুরি দল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ ফুট গভীরে গিয়ে জাহাজটি খুঁজে পায়। বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, ধ্বংসাবশেষটি প্রায় ৬৯ ফুট দীর্ঘ এবং ২০ ফুট প্রশস্ত। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়।
ডুব দেওয়া পুলিশরাও সাদামাটা বিশেষ পুলিশ ছিল না। ইতালি পুলিশের সাংস্কৃতিক এতিহ্য রক্ষাকারী শাখার ছিল তারা, নাম কারানবিনিয়েরি আর্ট স্কোয়াড। ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজের ধ্বংসাবশেষটি খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম বা দ্বিতীয় শতকের হতে পারে। জাহাজটি প্রথম খুঁজে পাওয়া গিয়েকোমো বলেছেন, ‘আমি যত কাছে যাই তত উত্তেজনা কাজ করতে থাকে। এটি পাথর ছিল না।’ তিনি জানান, এর মধ্যে শত শত সিরামিকের জার দেখতে পান, যা প্রাচীনকালে মদ, তেল ও শস্য রাখার কাজে ব্যবহার হতো।
তিনি বলেছেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে আমার জীবনে সবচেয়ে অসাধারণ আবিষ্কারগুলোর একটি। ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন ২০ শতকের মধ্যে কোনো কিছু দেখতে পাওয়া প্রথম মানুষের একজন হওয়ার বিষয়টি।’
গিয়েকোমো ওই জাহাজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, ‘সমুদ্র কখনও বিস্মিত করা বন্ধ করে না। এবার আমরা শুধু জাহাজ পাইনি, আমাদের ইতিহাসের একটি টুকরো পেয়েছি।’
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতি প্রাচীন জাহাজের ধ্বংসাবশেষটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা এখনও নৌযানটির প্রকৃতি সম্পর্কে জানেন না, তাদের বহু কিছু জানার বাকি। ভূমধ্যসাগরের তলদেশে এ রকম প্রাচীন বহু কিছু ছড়িয়ে আছে। এর আগে ২০২৩ সালেও উত্তর-পশ্চিম রোমে একটি প্রথম বা দ্বিতীয় খ্রিষ্টপূর্বের নৌযান পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৮ সালে বুলগেরিয়া উপকূলে পাওয়া গিয়েছিল দুই হাজার চারশ বছর পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। সে সময় সেটিকে অভিহিত করা হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো জাহাজ হিসেবে।
- বিষয় :
- জাহাজ
- ভূমধ্যসাগর
- ইতালি