কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪০, নিখোঁজ অন্তত ৩ হাজার
কলম্বিয়ার পেরেইরায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: ইপিএ
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০১ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১১:০৩
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে মঙ্গলবারও নিরলস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের ভাষায়, ‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি ও পেরেইরা শহর। বহু ভবন ধসে পড়েছে, হাজারো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি কালি। সেখানে মঙ্গলবার ভোরে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। ভূমিকম্পের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে-‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’
ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দ্রুত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। গত শুক্রবারই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সোমবার রাতে তিনি কালিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আশপাশের ভালে দেল কাওকা বিভাগে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ১৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পেরেইরা শহরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। কালির প্রায় ১৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত শহরটিতে ৫৮টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের কয়েকটিতে অন্তত ৫৩ জন আটকা পড়ে আছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। সেখানে অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শহরটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালের পর এটিই কলম্বিয়ায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ওই বছরের জানুয়ারিতে দেশটির একই পশ্চিমাঞ্চলের কফি উৎপাদনকারী এলাকায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এদিকে লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এক হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা অবশ্য এখনো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। একের পর এক জীবিত মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা তাদের আশাবাদী করে তুলেছে। উদ্ধারকারীদের বার্তা-ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেও অভিযান চালিয়ে যেতে হবে, কারণ 'প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ'।