ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

ট্রাম্পের উড়োজাহাজে কী ধরনের হামলার ঝুঁকি ছিল?

ট্রাম্পের উড়োজাহাজে কী ধরনের হামলার ঝুঁকি ছিল?
×

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪৯ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২২

তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে গোপনে উড়োজাহাজ বদলের কথা ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে স্বীকার করেছেন। তাঁকে ঘিরে কী ধরনের হামলার ঝুঁকি ছিল- সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হামলার ধরনের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।

জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের (শোল্ডার-টু-এয়ার মিসাইল) সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি ছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে থেকেই অবহিত করেছিল ইসরায়েল। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই উড়োজাহাজে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও ছিলেন।

এএফপি লিখেছে, উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো তথ্য বিবরণীতে উড্ডয়নের সময় জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার কথা ছিল। সিক্রেট সার্ভিস থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের নির্দেশনা সাধারণ সময়ে থাকে না।

এয়ার ফোর্স ওয়ানের পাশে ক্যাটারিং কনটেইনার। ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায়। ছবি: এএফপি

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার একটি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানি হুমকি এবং তাঁকে তুরস্ক থেকে বের করে আনতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে কংগ্রেসকে বিস্তারিত জানানো হোক।

ট্রাম্প কী বলেছেন?
খাবার বহনের ছোট ট্র্যাকে (ক্যাটারিং কনটেইনার) করে ট্রাম্পের উড়োজাহাজ বদলের খবর প্রথম প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। এ নিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, ভিন্ন একটি উড়োজাহাজে যাই। যেটির নিরাপত্তাব্যবস্থা একই মানের ছিল। তারা চেয়েছিল বলেই আমি করেছি। তারা যা করতে বলেছে, আমি তাই করেছি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় সেখানে কোনো ধরনের হুমকি ছিল। তবে আমি এ বিষয়ে খুব বেশি খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করিনি।’

গত সোমবার ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছিল, উড্ডয়নের ঠিক আগে ট্রাম্পকে গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বের করে নেওয়া হয়। সে সময় ওই উড়োজাহাজে সাংবাদিক এবং তাঁর শীর্ষ সহকারীরা ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত জুলাই মাসে। ট্রাম্প তখন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছিলেন।

উড়োজাহাজ বদল নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

এএফপি লিখেছে, উড়োজাহাজে ওঠার কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প একটি ক্যাটারিং কনটেইনারে করে উড়োজাহাজটি ত্যাগ করেন। এরপর কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর অপেক্ষাকৃত ছোট একটি উড়োজাহাজে চড়েন।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার মনে হয় আমি যে উড়োজাহাজে শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি, সেটিও ঝুঁকিতে ছিল। কারণ ওই উড়োজাহাজটিকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানানোর সম্ভাবনা বেশি ছিল।’

ইরানের হামলার হুমকির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো প্রভাবশালী প্রেসিডেন্টের ওপর অনেক হুমকি থাকে। সত্যি বলতে, আমি এসব নিয়ে কিছুই ভাবি না। বিষয় যাই হোক না কেন, আপনারা তো আমার দৃষ্টিভঙ্গি জানেনই- যা হওয়ার হবে।’

ক্লিনটন, বাইডেনের বিমান বদল
সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য উড়োজাহাজ বদলের (ডিকয় এয়ারক্রাফট) উদাহরণ অতীতেও আছে। ২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারত থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার সময় শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন। তিনি তখন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের বহনকারী এয়ারক্রাফটে উঠেছিলেন। 

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জো বাইডেনের ইউক্রেন সফরও কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে উড়োজাহাজ ও ট্রেনে ভ্রমণ করে সেখানে পৌঁছেছিলেন। ওই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন করে সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী।

আরও পড়ুন

×