ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

‘আমাদের রাস্তা কারও মতো নয়, নিজেদের বানিয়ে নিতে হয়েছে’

‘আমাদের রাস্তা কারও মতো নয়, নিজেদের বানিয়ে নিতে হয়েছে’
×

শায়ান চৌধুরী অর্ণব

অনিন্দ্য মামুন

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৪১

শায়ান চৌধুরী অর্ণব। সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। কোক স্টুডিও বাংলার সংগীত প্রযোজক হিসেবে উপহার দিচ্ছেন একের পর এক দারুণ দারুণ গান। এ ছাড়াও সম্প্রতি সুনিধি নায়েককে নিয়ে কানাডায় একের পর এক কনসার্ট করছেন তিনি। নতুন সৃষ্টি ও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য মামুন

গান নিয়ে কেমন আছেন কানাডায়। সেখানে কনসার্টের অভিজ্ঞতা কেমন?
ভালো আছি। আমি তো গানের মানুষ। তাই গান নিয়ে যে কোনো আয়োজনেই দারুণ লাগে। কানাডায় প্রথমবারের মতো ‘হোক কলরব কানাডা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। মীর জুয়েল এটির আয়োজক। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলা গান ও সংস্কৃতির আবহে একটি আনন্দময় সন্ধ্যা উপহার দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। শত শত প্রবাসী ভাই এখানে হাজির হলেন, আমি আর সুনিধি নায়েক গাইলাম। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দর্শকরা গান শুনলেন। 

কানাডায় আরও কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন?
হ্যাঁ, আগামী ১৪ আগস্ট অটোয়াতেও একই শিরোনামে কনসার্ট করব। এরপর আরও দু-একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই দেশে ফিরব। 

কোক স্টুডিও সিজন চলছে, আয়োজনটির সংগীত প্রযোজক হিসেবে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন?
‘কোক স্টুডিও বাংলা’ নিয়ে অনেক অনেক অভিজ্ঞতা ও গল্প তৈরি হয়েছে। সেগুলো বলা সময়সাপেক্ষ। তবে এককথায় বলতে গেলে দারুণ ও নান্দনিক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আয়োজনটির প্রথম সিজন শুরুর আগে মাত্র দু-মাস সময় দেওয়া হয়েছিল আমাকে। পরের সিজন থেকে প্রীতম হাসানসহ অন্য অনেকে মিউজিক প্রোডিউসার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, ফলে চাপ কিছুটা কমে। প্রথম সিজনটা পুরোটা একা করতে হয়। তবে প্রথম থেকে আমার সঙ্গে ছায়াসঙ্গী ছিল আদিত ও শুভেন্দু শুভ।
 
আর যদি প্রতিকূলতার কথা জানতে চাই?
শুরুতে প্রতিকূলতা তো অনেক ছিল। এর অন্যতম হচ্ছে, টিমের এত মানুষ নিয়ে আমাদের প্র্যাকটিসের কোনো জায়গা ছিল না। এটা নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি। আমাদের দেশে বড় কোনো স্টুডিও ছিল না, যেখানে আমি একসঙ্গে চার-পাঁচজন শিল্পীর গান রেকর্ড করতে পারব। প্রথম সিজন তো আমরা এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আরেক অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে কাজটা চালিয়ে নিয়েছি। এমনও হয়েছে দীর্ঘদিনের জন্য ভাড়া নিয়েছি কোনো অ্যাপার্টমেন্ট; দুই মাসের মাথায় বাড়িওয়ালা মানা করে দিয়েছেন। পরে অবশ্যই ধীরে ধীরে সব তৈরি করে নিতে হয়েছে। বিশ্বাস ছিল যে আমাদের মেধা আছে। তবে শুটিং করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। বলতে পারেন রাস্তা নিজেদের বানিয়ে নিতে হয়েছে, আমাদের রাস্তাটা কারও মতো নয়। আমাদের অনেক কিছু ছিল না তখন। সবকিছু নিজেদের মতো করে ডিজাইন করতে হয়েছে।

শিল্পী, গান বাছাই ও সংগ্রহের প্রক্রিয়াটা কেমন?
গোটা একটা টিম আছে আমাদের, যারা এই কাজটা করেন। আমরা নিজেদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গান চালাচালি করি। এই চালাচালি করতে করতেই ভালো ভালো গান ও নতুন শিল্পী পেয়ে যাই। আমাদের দেশে তো অনেক রকমের গান রয়েছে। প্রথম দুটি সিজনেই ছিল জারি, সারি, বাউলসহ যত ধরনের ফোক ফর্ম। গানগুলোর পেছনে নিশ্চয়ই একটা সময় রয়েছে, গল্প রয়েছে, সেসব সময় ও গল্পকে ধরা। এর পরই আর্টিস্ট। এমন না যে আমরা আর্টিস্টকে (শিল্পী) আগে ধরি। গানগুলো ধরার পর নানা মাধ্যম যেমন ইউটিউব, ফেসবুক, গণমাধ্যমের খবর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় সব গান ও তার শিল্পীদের খোঁজ পাই। এ ছাড়া আমরাও তো ২০-২৫ বছর ধরে মিউজিক করছি। আমাদেরও তো একটা আইডিয়া রয়েছে যে, কারা কী কী করছেন। সে জায়গা থেকেই গান বা গল্প নির্বাচন করি। 

আয়োজনটির অনেক গানই এখন মানুষের মুখে মুখে। যখন শুরু করেছিলেন, তখন কি মনে হয়েছিল এমন জনপ্রিয়তা পাবে?
একেবারেই না; বরং ভয়ে ছিলাম। আল্লাহ জানে কী হবে। তবে একটা কনফিডেন্স ছিল, যে কনটেন্ট বা গান বেছে নিয়েছি, সেগুলোর জন্ম তো অনেক বছর আগে। সেগুলোর সঙ্গে আমরা শুধু কালার, গল্প ও অনুষঙ্গ যুক্ত করেছি। বিশ্বাস ছিল মানুষ এগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করবে, ভালো জায়গায় পৌঁছতে পারব। এটা মাথায় নিয়েই আমি কাজ করছিলাম। সেটাই হয়েছে। আমরা তো শুধু গানবাজনা করে ছেড়ে দিয়েছি, বাকি কাজগুলো যেমন রিভিউ দেওয়া, কমেন্ট করা, প্রতিক্রিয়া জানানো– সেগুলো দর্শক বা শ্রোতারা করেছেন। সবাই মিলে যেভাবে বুস্টআপ করেছেন ওটাই হচ্ছে আসল জিনিস। জনপ্রিয়তা পেয়েছে ওসবের কারণেই।

এই আয়োজনের সঙ্গে আপনার যুক্ত হওয়ার আসল উদ্দেশ্যটা কী ছিল?
আমি সবসময় ভেবেছি, এ আয়োজনটির মাধ্যমে বড় পরিসরে আমার দেশের গান দেশের বাইরের লোকজনও দেখবেন। সো, এটা দেশের বাইরে আমার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করবে। অন্য দেশগুলো যখন কোক স্টুডিও করছিল তখন মনে হয়েছে, এই মাধ্যমটা দিয়ে আমাদের নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করার সুযোগ হয়েছে। বলতে পারেন সেই সুযোগটা পেতেই যুক্ত হই। এখানে আমি ও আমরা সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছি।

নতুন গান রিলিজ হলে যেমন প্রশংসা হয়, সমালোচনাও হয়। কীভাবে নেন?
সমালোচনার বিষয়টা প্রথম প্রথম একটু আজব লাগত। পরে মনে হয়েছে, যারা সমালোচনা করেন, সেখান থেকে কিছু নেওয়ার আছে কিনা। সেটা খুঁজি এবং নেওয়ার মতো কিছু থাকলে সেটা নিয়ে নিই। সেটার যদি পরিবর্তন আনা দরকার মনে হয় তখন চেষ্টা করি। যেটা না নেওয়ার মতো মনে হয়, সেটা গুরুত্ব দিই না। তবে গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের সবারই দরকার আছে। আমরাও যে সব ঠিক করব তা কিন্তু নয়। সমালোচনা হলে কাজগুলোকেও বিচার বিবেচনায় আনার সুযোগ পাই। 

আরও পড়ুন

×