অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সমকাল
ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪৬ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫৬
শরীয়তপুরের সখিপুরে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মিলন ঢালী (৩৩) স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস ঢালীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ইউনিয়নের সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। এ ঘটনায় মিলনসহ দুইজনকে অভিযুক্ত করে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, মামলা করার পর অভিযুক্ত তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভুক্তভোগীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে ওই নারীকে একাধিকবার উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। এজন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিলনকে সতর্ক করে ওই নারীর মাসহ পরিবারের লোকজন। ঘটনার দিন ৫ আগস্ট দুপুরে বাবার বাড়িতে ছিলেন ভুক্তভোগী। বাসায় তিনি ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগে অভিযুক্ত মিলন ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার করেন ভুক্তভোগী। তবে চিৎকার-চেঁচামেচি করায় ভুক্তভোগীকে মারধর করেন অভিযুক্ত মিলন। পরে লোকজন উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীকে হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায় ছাত্রদলের ওই নেতা।
আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মিলন ঢালী (৩৩) ও আনোয়ার ঢালীর (৩৬) বিরুদ্ধে ৯ আগস্ট সখিপুর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন ওই নারীর মা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা করায় মঙ্গলবার ১১ আগস্ট দুপুরে ওই নারীর মাকে ফোন দিয়ে পরিবারসহ হত্যা ও ঘরবাড়ি পেট্রোল বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্ত মিলন। ফলে গত ৭ দিন ধরে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলা তুলে নিতে মিলন মাকে ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাই ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছি না। পুলিশও তাকে আটক করছে না। আমরা কার কাছে যাবো? কে আমাদের দায়িত্ব নিবে। আমি বিচার পাচ্ছি না কোথাও? আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করি তার যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়।’
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আগে জানলে মামলা করতাম না। মামলা করে এখন নিজেরাই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। মামলা উঠিয়ে নিতে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে মিলন ও তার পরিবারের লোকজন। মেয়েটা এমনিতেই অসুস্থ। এরপর তাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তাতে ডাক্তার বলেছেন সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। আমার স্বামী নেই, কাকে নিয়ে মামলা লড়বো? আমাকে হুমকি দিয়ে বলে মামলা না তুলে নিলে হত্যা করে ঘরবাড়ি পেট্রোল বোমা মেরে উড়িয়ে দিবে। এই দেশে কি প্রশাসন নেই? আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও আমাদের নিরাপত্তা চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন ঢালীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন মিলন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের কাছে তিনি টাকা পাবেন। সেই ধারের টাকা আনতে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে ছাত্রদলের ওই ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, ওখানে ছাত্রদলের কমিটি নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় করলে তার দায় ছাত্রদল নিবে না। কমিটি সচল থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতো। কোনো অপরাধীর স্থান ছাত্রদলে নেই এটা স্পষ্ট। আমি বিষয়টি থানা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে অভিযুক্ত মিলন ঢালী ছাত্রদলের কোনো পদে আছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা রুজু করা হয়। মামলার কপি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হুমকির বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ছাত্রদল
- ধর্ষণচেষ্টা
- ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ