ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে বাধা দিচ্ছে যে কৌশল

তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে বাধা দিচ্ছে যে কৌশল
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৩

গ্রিক মালিকানাধীন সুপার ট্যাঙ্কার কিকু গত ২৫ জুলাই কাতারের মেসাইদ তেল রপ্তানি টার্মিনালে নোঙর করে। চার দিন পর অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে এটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। গত ৩১ জুলাই দুপুরে দুবাই উপকূলের কাছে পৌঁছাতেই জাহাজটি হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। মূলত জাহাজটি তার ‘এআইএস ট্র্যান্সপন্ডার’ বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পর ১ আগস্ট সকালে হরমুজ প্রণালির অপর পাশে কিকুর সিগন্যাল পুনরায় ভেসে ওঠে।

সিএনএনের খবর অনুসারে, জাহাজগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারায় রাতের আঁধারে ট্র্যান্সপন্ডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে। মূলত ইরানের ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে এই ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে। যদিও এই কৌশলের পরও মাত্র ২৩ মাইল চওড়া এই প্রণালিতে রাডারের চোখ ফাঁকি দেওয়া কঠিন। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এক মাস আগেই কিকু নামের ট্যাঙ্কারটিতে একটি ড্রোন আঘাত করলেও অলৌকিকভাবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। কেপলারের তথ্যমতে, হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী ৮০ শতাংশ জাহাজই এখন ডার্ক ট্রানজিট কৌশলে ওমান উপকূল ঘেঁষে চলাচল করছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানিগুলো তাদের ট্যাঙ্কারের সিগন্যাল বন্ধ রেখে পারস্য উপসাগর থেকে তেল ওমান সাগরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অপেক্ষমাণ অন্য জাহাজে তেল খালাস করে জাহাজগুলো আবার ফিরে আসছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজের ঝুঁকি ও বীমার খরচ মার্কিন সরকার ও তেল উৎপাদকদের ওপর পড়েছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের মতে, এই কৌশলে বর্তমানে দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ পার হচ্ছে, যা ট্র্যাকিং ডেটার তথ্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

এশিয়ার তেল বাজারের জন্য এই গোপন চলাচল এক সংকটময় সময়ে স্বস্তি দিচ্ছে। কিকু জাহাজটি ১ আগস্ট আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছে দেখা দেয়। সেখানে নাভ ইলেকট্রন নামে অন্য একটি গ্রিক সুপার ট্যাঙ্কারের পাশে নোঙর করে। তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তেল স্থানান্তর করে।

একটি সাময়িক সমাধান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ‘ডার্ক ট্যাঙ্কার’ কৌশলটি বিশ্ববাজারকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা থামবে না।

হরমুজকে নিজেদের ভূখণ্ড বললেন ট্রাম্প 
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকান ভূখণ্ড মনে করি। আমাদের নৌ অবরোধ বহাল রয়েছে এবং আমরা যা চাইব, তা-ই হবে।’ ট্রাম্পের মতে, ইরান সমঝোতায় আসতে আগ্রহী হলেও ওয়াশিংটনের চাহিদা অনুযায়ী ‘সঠিক চুক্তি’ করতে তারা এখনও প্রস্তুত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নতুন উপনিবেশবাদের শামিল
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে কোনো দেশের ওপর এভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যান্য স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এটি জাতিসংঘভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করার চেষ্টা এবং নতুন এক উপনিবেশবাদের শামিল।

ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি 
সম্প্রতি বাগদাদে ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সফরের সময় ইরাকি প্রশাসন তাদের তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ নিশ্চিত করেছে, ইরাকের অনুরোধের ভিত্তিতে কিছু নির্দিষ্ট ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরান।

আরও পড়ুন

×