ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

গাড়িজুড়ে বান্ধবীর ৩,৪০০ চুমুর দাগ

গাড়িজুড়ে বান্ধবীর ৩,৪০০ চুমুর দাগ
×

ছবি: এনডিটিভি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:০৬ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:২২

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার আশায় নিজের গাড়িজুড়ে বসিয়েছিলেন প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি ‘কিস মার্ক’। সাড়ে তিন ঘণ্টার পরিশ্রম আর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার লিপস্টিকে সাজানো সেই গাড়ির ভিডিও সত্যিই ভাইরাল হয়। মাত্র দুই দিনের মধ্যে ভিডিওটি দেখা হয় প্রায় ৫৫ লাখ বার। তবে দর্শকের তালিকায় যে ট্রাফিক পুলিশও ছিল, তা হয়তো ভাবেননি গাড়ির মালিক। খবর এনডিটিভির

শেষ পর্যন্ত ভাইরাল সেই ‘কিসিং কার’ই ডেকে আনে বিপদ। গাড়িটি আটক করে থানায় নেয় গোয়ালিয়র ট্রাফিক পুলিশ। পরে মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় গাড়ির মালিক আদিত্য শিকারওয়ারকে। শুধু জরিমানাই নয়, থানার চত্বরে নিজের গাড়ি থেকে হাজার হাজার লিপস্টিকের দাগও ঘষে তুলতে হয়েছে তাঁকে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মারুতি সুইফট গাড়ি প্রায় পুরোটা লিপস্টিকের চুম্বনের দাগে ঢাকা। গাড়িটি শহরের রাস্তায় দ্রুতগতিতে চলছিল। অস্বাভাবিক ওই ভিডিও নজরে আসে ট্রাফিক পুলিশের। এরপর গাড়িটির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে শুরু হয় অনুসন্ধান।

তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ থাটিপুর এলাকায় পৌঁছে গাড়িটি শনাক্ত করে। পরে গাড়িটি ট্রাফিক থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মালিক আদিত্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আদিত্য জানান, তাঁর এক নারী বন্ধু গাড়িটির প্রায় পুরো শরীরে ৩ হাজার ৪০০টি ‘কিস মার্ক’ দিয়েছিলেন। এ কাজ করতে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। খরচ হয়েছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার লিপস্টিক। মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করে ব্যতিক্রমী ভিডিও তৈরি করা এবং সেটি ভাইরাল করা।

আদিত্য বলেন, ‘আমার এক নারী বন্ধু এটি করেছিল। আমি গাড়িটি পার্ক করে একটু সরে গিয়েছিলাম, আর সে-ই ওই দাগগুলো দিয়েছিল। আমি ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলাম।’

তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বন্ধু ভেবেছিল এমনটা করলে ভিডিওটি ভাইরাল হবে, তাই আমরা তা পোস্ট করি। সত্যিই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। সে পুরো গাড়িটিই ওই দাগে ভরিয়ে দিয়েছিল।’

ট্রাফিক পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ অভিষেক রঘুবংশী বলেন, ভিডিওটি প্রায় দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে লিপস্টিকে ঢাকা গাড়িটিকে প্যাটেল নগর-সিটি সেন্টার এলাকা থেকে দ্রুতগতিতে যেতে দেখা যায়। ভিডিও থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে থাটিপুর থেকে গাড়ি ও চালককে পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় আদিত্যকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন। পরে পুলিশ স্টেশন চত্বরেই গাড়ি থেকে লিপস্টিকের দাগগুলো নিজ হাতে পরিষ্কার করেন।

পুলিশের ভাষ্য, আদিত্য একজন ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পরিচিতি ও অনুসারী বাড়াতেই তিনি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে যে বিপদে পড়তে পারেন, তা আগে বুঝতে পারেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পর ভবিষ্যতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং এ ধরনের কাজ আর না করার আশ্বাস দিয়েছেন আদিত্য। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৯৫২ জন অনুসারী ও ৬৪টি পোস্ট ছিল। পুলিশি পদক্ষেপের পর তিনি অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন

×