ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিব্বতে বন্যা

চারদিন পর ২৩ দেশের ২৬১ জন নিখোঁজের তথ্য জানাল চীন

চারদিন পর ২৩ দেশের ২৬১ জন নিখোঁজের তথ্য জানাল চীন
×

গিরং বন্দর থেকে ২ কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে অভিযান চালান উদ্ধারকর্মীরা। গত শুক্রবার তিব্বতে। ছবি: এএফপি

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪১

তিব্বতে বন্যায় নিখোঁজদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন নাগরিক আছেন। রোববার এমন তথ্য জানিয়েছে চীনের কর্তৃপক্ষ। গত বুধবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বিস্তারিত তথ্য এটি। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৪ জন নেপালের। এছাড়া, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ জন আছেন। সব মিলিয়ে এখনও তিব্বতে নিখোঁজ ৫৪৬ জন।

আঞ্চলিক সরকারের এক সংবাদ সম্মেলনের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে নেপালের কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ।

চীন ১৯৫০-এর দশকে তিব্বতের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অঞ্চলটিতে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ হয়েছে। তিব্বত বর্তমানে চীন সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি। গত বুধবারের বন্যা ও ভূমিধসের পর সেখানে হতাহতের বিষয়ে বেইজিং খুব কম তথ্যই প্রকাশ করেছে। 

যেসব তথ্য রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার হয়নি, এমন অনেক কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্যোগের ছবি এবং ভিডিও আছে। ঘটনাস্থলে থাকা সাধারণ মানুষ ও পর্বতারোহীরা সেগুলো পোস্ট করেছিলেন।

বড় ধরনের দুর্যোগের পর চীনা কর্তৃপক্ষ প্রায়ই তথ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর উদ্দেশ্য, জনমত নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কোনো আলোচনাকে সরকারের সমালোচনায় পরিণত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া।

দুর্যোগটি কীভাবে ঘটেছিল তা নিয়ে রোববার চীনা কর্মকর্তারা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ করার প্রযুক্তি ও ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টার দিকে নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গে হিমবাহ ধসে পড়ে। পর্বতশৃঙ্গটির উচ্চতা প্রায় ১৭ হাজার ফুট।

চীনের একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অধ্যাপক সু পেংছেং জানান, বরফের ওই বিশাল অংশ প্রায় ৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এতে পাহাড়ের ঢাল ক্ষয়ে বিশাল ভূমিধস তৈরি হয়। ধ্বংসাবশেষগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১৩ মাইল পথ অতিক্রম করে নেপাল ও চীন সীমান্তের গিরং বন্দরে আঘাত হানে। 

অধ্যাপক সু পেংছেং জানান, এই দুর্যোগে প্রায় ১৭২ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে সীমান্ত পারাপার এলাকার ২৭টি ভবন।

ভূমিধস আঘাত হানার ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুক্রবার বিকেলে চীনের উদ্ধারকর্মীরা গিরংয়ে মূল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস রোববার জানিয়েছে, সেখানে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ৯৪ জন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×