ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছায়া ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টার মধ্যেই মিসরে শি

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছায়া ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টার মধ্যেই মিসরে শি
×

বিমানবন্দরে শি জিনপিংকে স্বাগত জানান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি (ডানে)। মঙ্গলবার কায়রোতে। ছবি: এএফপি

এএফপি ও আরব নিউজ

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:২৪ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩৯

ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন আবহের মধ্যে মিসর সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শঙ্কার মধ্যে আছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করবেন শি। এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি কায়রোতে পৌঁছান। দুইদিনের সফরে কয়েকটি আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা আছে। একইসঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও তারা আলোচনা করতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠককে কায়রো তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন তুলে ধরার কাজে ব্যবহার করবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটন ও বেইজিং- উভয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে তারা নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর সক্ষমতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।

অপরদিকে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতার এই বৈঠকের নেপথ্যে গভীর তাৎপর্য আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিসরের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এর মধ্য দিয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে বেইজিং।

এএফপিও লিখেছে, চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। এর আগে বেইজিং মার্কিন ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। 

চীন ও মিসর দুটিই ব্রিকসের সদস্য। কায়রোর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ আছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়ায় এসব বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিসির নেওয়া বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নির্মিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানী। এই প্রকল্পে অর্থায়নের বড় একটি অংশ এসেছে চীনা বিনিয়োগ থেকে।

মিসর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সামরিক সহযোগিতা পায়। ঐতিহাসিকভাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত সপ্তাহে ‘মিসর ব্যাংকের’ সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার অঙ্গীকার করে। একইসঙ্গে পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞারও হুমকি দিয়েছে। চীনের ব্যাংকও এর আওতায় পড়তে পারে। বেইজিং ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। মার্কিন হুমকির পর তারা নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×