ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের টানেলগুলোতে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ফিকে

নেপালের টানেলগুলোতে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ফিকে
×

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে পৌঁছায় পুলিশের একটি হেলিকপ্টার। মঙ্গলবার নেপালের রসুয়া জেলায়। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:০৮ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৯

নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে বুধবারও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু উদ্ধারকর্মীরা ভেতরে নির্দিষ্ট দূরত্বের পর আর সামনে এগোতে পারছেন না। ফলে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ফিকে হয়ে গেছে।

দেশটিতে ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহ পার হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শুরুতে বলা হয়েছিল, একাধিক টানেলের ভেতর ১০০ জনের বেশি শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৬৩৯ জন কর্মী নিখোঁজের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনডিআরআরএমএ-এর মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। টানেলগুলোতে বিদেশি দলগুলোও কাজে সহায়তা করছে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে প্রচুর পরিমাণে কাদা, ধ্বংসাবশেষ ও পলি জমে আছে।

রসুয়াগাধী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল এলাকায় সেনা সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। গত সোমবার রসুয়া জেলায়। ছবি: এএফপি

এএফপিকে শান্তি মাহাত আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে টানেলে প্রবেশের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আবার প্রবেশপথ খুঁজে পেলেও উদ্ধারকারীরা ভেতরে টানেল বন্ধ অবস্থায় পেয়েছেন। তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সোমবার উদ্ধারকারীরা দুটি টানেল থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেন। কয়েকটি টানেলের ভেতরে তারা কয়েক’শ মিটার পর্যন্ত প্রবেশ করতেও সক্ষম হন। কিন্তু কাদার কারণে আর সামনে এগোতে পারেননি।

মঙ্গলবার জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকদের বলেন, সব টানেলেই আমাদের প্রবেশাধিকার আছে। তবে ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে গেছে। কারণ সেখানে পাথর ও পলি জমে আছে।

নিখোঁজ স্বজনের প্রতীকী শেষকৃত্য পালনের অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক নারী। বুধবার কাঠমান্ডুতে। ছবি: এএফপি

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ। এছাড়া, নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৪৭০ মেগাওয়াট।

বুধবার পর্যন্ত নেপাল-চীন সীমান্তের বন্যায় দুই দেশে ১ হাজার ১৩০ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬২ জন। সাতদিনেও নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়ায় অনেক পরিবারের সদস্যরা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। বুধবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনেককে নিখোঁজ স্বজনের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

×