চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম
‘আমরা এখনই দামে চিড়েচ্যাপ্টা’
ছবি: এআই দিয়ে বানানো
তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৬ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৭
সরকার কেবল সরকারি কর্মচারীদের কথা ভাবছে। তাদের বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে। তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তাতে বাজারে যে প্রভাব পড়ে, সেটা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ছুঁয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন বেসরকারি কর্মচারী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। নিত্যপণ্যের বাজারে বেতন বাড়ার প্রভাব আজ না হোক কাল তো পড়বেই। তাই সরকারকে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম কাঁচাবাজার বহদ্দারহাটে ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাসুদ আলম।
বহদ্দারহাটে কেনাকাটা করছিলেন স্থানীয় বাদুরতলা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ জেসমিন আকতার। তিনি সমকালকে বলেন, ‘নতুন করে আর কী দাম বাড়বে। এখনই তো সব জিনিসের দাম চড়া। আমরা চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছি। বন্যার পর থেকে শাকসবজি ও মাছ-মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ার পর সেটা তো আর কমছেই না।’ সম্প্রতি ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার কারণে চট্টগ্রামে মাছ-মাংস, শাকসবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম আগে থেকেই বেশ চড়া।
বহদ্দারহাটের মুদি দোকানদান আমান উল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। সবেমাত্র এই ঘোষণা এসেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে চাল, ডালসহ জিনিসপত্রের তেমন একটা দাম বাড়েনি। পাইকারিতে দাম বাড়লেই কেবল খুচরা বাজারে দাম বাড়বে। তাই সরকার এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে– সেটাই বড় প্রশ্ন।’
সম্প্রতি বন্যায় চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদের ফসল, সবজি, মাছ, মুরগি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি কৃষক। ফলে চট্টগ্রাম জেলার বাইরে থেকে আসা পণ্যের বড় একটি অংশের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে মানুষকে। যে কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের দাম তুলনামূলক চড়া।
তবে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘বন্যার কারণে জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন সরবরাহ বাড়ছে। ফলে দাম কমে আসছে। দাম যেভাবে বেড়েছিল, সেভাবে কমছে না।’
গতকাল বহদ্দারহাট ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক ধরনের সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পটোল, শসা, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও চালকুমড়া। এসব সবজির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বেগুন ৮০ টাকা এবং শিম ১৮০ টাকা দামে বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০, চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজর ৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ছোট আকারের, অর্থাৎ ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৯০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় এক হাজার টাকা ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি থেকে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজি দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে এই দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হয়ে থাকে।
খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫১-৫২ টাকা ছিল। এখন তা ৫৬-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের মধ্যে (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজি প্রতি ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮২ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
- বিষয় :
- নিত্যপণ্যের দাম
- চট্টগ্রাম
- বন্যা