ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনে হাসপাতাল-ব্যাংক-নাইটক্লাবেও হচ্ছে বিয়ের নিবন্ধন

চীনে হাসপাতাল-ব্যাংক-নাইটক্লাবেও হচ্ছে বিয়ের নিবন্ধন
×

ছবি: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪৪

বিয়ের হার বাড়াতে চীনে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কার্যালয়ের বাইরে এবার হাসপাতাল, ব্যাংক, বিমানবন্দর, মেট্রো স্টেশন ও নাইটক্লাবেও বিয়ের নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে সরকারের এসব উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকের প্রশ্ন, বিয়ের নিবন্ধন সহজ না হওয়ার কারণে কি তরুণেরা বিয়ে করছেন না?

সম্প্রতি দেশটির শানদং প্রদেশের জিবো শহরের লিনজি জেলার মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে বিয়ের নিবন্ধন সেবা চালু করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট চীনের ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসেবে পরিচিত ছিসি উৎসবের দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ সেবা চালুর ঘোষণা দেয়।

হাসপাতালটির দাবি, একই জায়গায় বিয়ের নিবন্ধন, বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সন্তান নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় নবদম্পতিদের সময় ও ঝামেলা কমবে।

এর আগে চলতি আগস্টে উত্তর চীনের তিয়ানজিনে চায়না পোস্টাল সেভিংস ব্যাংকের একটি শাখায় বিয়ের নিবন্ধন সেবা চালু হয়। দেশটির কোনো ব্যাংকে এ ধরনের সেবা চালুর ঘটনা এটিই প্রথম।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিয়ের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিয়ের নিবন্ধনের পাশাপাশি নবদম্পতিদের বিমানবন্দরের পর্যবেক্ষণ ডেকে বিনা মূল্যে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।

চীনের বিয়ের নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে গত বছরের মে মাসে। নতুন নিয়মে দম্পতিরা নিজেদের হুকৌ বা পারিবারিক নিবন্ধনের এলাকার বাইরে গিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে পারছেন। নিবন্ধনের সময় হুকৌ বই সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়।

এর পর থেকে প্রচলিত বেসামরিক কার্যালয়ের বাইরে বিয়ের নিবন্ধনের নানা আয়োজন শুরু হয়। পর্যটনকেন্দ্র, পার্ক, মন্দির ও মেট্রো স্টেশনেও চালু হয় নিবন্ধনকেন্দ্র।

বেইজিং ও নানজিংয়ের কয়েকটি শতাব্দীপ্রাচীন মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিয়ের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আনহুই প্রদেশের হেফেইয়ে গত আগস্টে একটি মেট্রো স্টেশন দেশের প্রথম পরিবহনকেন্দ্র হিসেবে বিয়ের নিবন্ধন সেবা চালু করে। সাংহাইয়ে আবার একটি নাইটক্লাব স্থানীয় বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে ক্লাবের ভেতর বিশেষভাবে বিয়ের সনদ দেওয়ার আয়োজন করেছে।

চীনের বেসামরিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশটিতে প্রচলিত বেসামরিক কার্যালয়ের বাইরে ৫০০টির বেশি বিয়ের নিবন্ধনকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১ হাজার ৩০০টির বেশি উন্মুক্ত স্থানকে বিয়ের সনদ দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগে বিয়ের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও প্রবণতা স্থায়ী হয়নি। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশজুড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার দম্পতি বিয়ে নিবন্ধন করেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। পুরো ২০২৫ সালে বিয়ের নিবন্ধন হয় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ লাখ ৫৭ হাজার বেশি।

তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আবার বিয়ের নিবন্ধন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে ৩২ লাখ ৮০ হাজার দম্পতি বিয়ে করেছেন।

নিবন্ধনের জায়গার অভাবে কি বিয়ে হচ্ছে না?
সরকারের এসব উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন। একজন প্রশ্ন করেছেন, ‘মানুষ কি বিয়ে করে না, কারণ তারা নিবন্ধনের জায়গা খুঁজে পায় না?’

আরেকজন ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘বেসামরিক কর্তৃপক্ষের উচিত এভারেস্টের চূড়ায়ও বিবাহবিচ্ছেদের সেবা চালু করা।’

তরুণদের বিয়ে না করার পেছনে নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার জটিলতার চেয়ে অন্য কারণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক ব্যবহারকারী বলেন, ‘তরুণদের বিয়েতে বাধা জটিল প্রক্রিয়া নয়; বরং আগামী কয়েক দশকের জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হওয়ার আত্মবিশ্বাসের অভাব।’

আরেকজন লিখেছেন, বিয়ের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কায় তরুণেরা এখন আগের মতো বিয়েকে জীবনের অপরিহার্য ধাপ হিসেবে দেখছেন না।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আরও পড়ুন

×