ইরান যুদ্ধ অবসানের পক্ষে তৃতীয়বার ভোট মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের
ছবি: এপি
এপি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩৯ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০৬
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের পক্ষে তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার গভীর রাতে ২২০-২০৪ ভোটে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমতা বিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেন আইনপ্রণেতারা। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এবারের ভোটে সব ডেমোক্র্যাটের পাশাপাশি সাতজন রিপাবলিকানও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর আগে হাউসে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সদস্যের সংখ্যা ছিল চারজন। তবে আগের দুটি উদ্যোগের কোনোটিই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। সেখানে পৌঁছালে ট্রাম্প এতে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি সামনে আনেন ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সেথ মল্টন। ইরাক যুদ্ধের সময় মেরিন কোরে দায়িত্ব পালন করা মল্টন বলেন, ট্রাম্প একসময় বলেছিলেন যুদ্ধটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলবে। এখন কংগ্রেসের সময় এসেছে সংবিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে কঠিন প্রশ্ন তোলার।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ও ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্রায়ান মাস্ট প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডেমোক্র্যাটরা ইরানের হুমকি থাকা অবস্থায় ঠিক কোন মার্কিন সামরিক সম্পদ অঞ্চলটি থেকে সরিয়ে নিতে চান। মাস্ট বলেন, ট্রাম্প ‘অন্তহীন যুদ্ধ’-এর বিরোধী এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধ করতে চান।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই সম্ভবত শেষ ভোট। নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি। আইনপ্রণেতারা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।
এদিকে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে পাম্পে বেশি দাম দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর সামরিক পদক্ষেপ এখন রিপাবলিকান পার্টির ওপরও চাপ তৈরি করছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষই বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে।
জুলাইয়ে এপি-এনওআরসির এক জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার মতো যথেষ্ট কারণ ছিল না।
জুন ও জুলাইয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে প্রতিনিধি পরিষদ দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সংঘাত বন্ধে সিনেটও অনুরূপ একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। তবে ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা পরদিনই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ হিসেবে প্রেসিডেন্টেরও নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা আরোপের চেষ্টা করা হয়। আইন অনুযায়ী, ৬০ বা ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, জ্বালানির দাম কমানো প্রয়োজন। তবে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। মিত্ররা অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা বাড়াচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনসন বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে জ্বালানির দাম কমার সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কমে আসবে।
- বিষয় :
- ভোট
- ইরান যুদ্ধ
- যুক্তরাষ্ট্র
- কংগ্রেস
- ডোনাল্ড ট্রাম্প