ফেসবুকে তাওয়াক্কল কারমানের নিয়োগ নিয়ে আরব দেশগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া
তাওয়াক্কল কারমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২০ | ০১:২৮ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২০ | ০৩:৫৪
বিতর্কিত পোস্ট খতিয়ে দেখতে ও হুমকি-বিদ্বেষমূলক তথ্যের প্রচার বন্ধে ওভারসাইট বোর্ড গঠন করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এই বোর্ডে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইয়েমেনের সাংবাদিক তাওয়াক্কল কারমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর এতেই ক্ষেপেছে আরব দেশগুলো। তাদের দাবি, কারমানের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও বক্তব্যের কারণে ফেসবুকের উদ্যোগ বিফলে যেতে পারে।
তাওয়াক্কল আবদেল-সালাম খালিদ কারমান মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন।
মিডল ইস্ট অনলাইনের (এমইও) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাওয়াক্কল কারমান মিসরীয় রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ইসলামপন্থি ইয়েমেনি ইসলাহ পার্টির (ওয়াইআইপি) সদস্য ছিলেন। তাওয়াক্কল মুসলিম ব্রাদারহুডকে মধ্যপ্রাচ্যে সরকারি অত্যাচার ও সন্ত্রাসবাদের অন্যতম শিকার বলে অভিহিত করেছেন। খবর অপইন্ডিয়ার
মুসলিম ব্রাদারহুডও তার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের পরে তাকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিনন্দনও জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেসবুকের কন্টেন্ট ওভারসাইট বোর্ডে কারমানের অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিশ্বাসগুলো ছড়িয়ে পড়বে।
তাওয়াক্কল ফেসবুক ওভারসাইট বোর্ডে মনোনীত হওয়ায় আরবরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক আবদুল্লা বলেছেন, ফেসবুকের বিষয়বস্তু তদারকির জন্য তাওয়াক্কল কারমান কোনো আন্তর্জাতিক কাউন্সিলে থাকার যোগ্য নন।
এমিরাতি লেখক ওলা আল শেখ মন্তব্য করেছেন, তাওয়াক্কল কারমানকে নিয়োগ একটি বিরাট বিপর্যয়। কারণ এই পদে তার নিয়োগের ফলে সে এই অঞ্চল সম্পর্কে ফেসবুকের নীতিগুলিতে রায় দিতে সক্ষম হয়।
সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ বিশেষজ্ঞ হানি নাসিরা বলেন, ইয়েমেনের সাবেক শাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহর পতনের জন্য জনমত এক করতে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন কারমান। তাকে সালেহের শাসনের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সে কারণেই তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু পরে তার রাজনৈতিক বিশ্বাস অনেক পরিবর্তিত হয়ে একপেশে হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, নোবেল জেতার পর তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ইউসুফ আল-কারাদোয়ারি কর্তৃক কাতারে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সে সময় কারমানকে একটি বিতর্কিত বই উপহার দেওয়া হয়, যার নাম ‘ফিকহ-আল-জিহাদ’।
তিনি আরও বলেছেন, কাতারে ও তুরস্কের অগণতান্ত্রিক সরকারগুলির প্রতি কারমানের আনুগত্য এবং সহযোগিতার পর তিনি যে নিরপেক্ষ, তার সে দাবি আর ধোপে টেকে না। তার রাজনৈতিক বক্তব্য উগ্রবাদ ও বিভাজনকে আরও উৎসাহ দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উগ্র সন্ত্রাসবাদকে বিশ্বাস করে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে দায়িত্বে নিযুক্ত করায় ফেসবুকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফেসবুকের কন্টেন্ট ওভারসাইট বোর্ড সাধারণত কোনো বার্তার অতীত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব পর্যালোচনা করে তারপর তা সবার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেবে।
ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলির কন্টেন্ট নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। এই মাধ্যমগুলোর কন্টেন্ট মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে ও বিভাজন তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেসবুক ওভারসাইট বোর্ডে একজন ইসলামপন্থির উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমটির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিকে আরও জোরদার করছে।
- বিষয় :
- তাওয়াক্কল কারমান
- মুসলিম ব্রাদারহুড
- ফেসবুক
