ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া নিয়ে টুইট, বিতর্কে রুপা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া নিয়ে টুইট, বিতর্কে রুপা
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৫৭ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:০০

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে এক টুইট করে বিতর্কে নাম জড়িয়েছে রাজ্যসভায় বিজেপির সংসদ সদস্য রুপা গাঙ্গুলীর।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে চার দশক আগে কীভাবে তিনি ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন সেই বক্তব্য দেন রুপা; এরপরই তাকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর এমন পরিস্থিতিতে ভারতে রুপার অবস্থান কী? তিনি কি এ দেশে জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদ বা বিধানসভায় থাকতে পারেন? যদি না পারেন, তা হলে সরকারি ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তার সাংসদ বা বিধায়ক পদ খারিজ হবে না কেন? এসব প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার রূপা টুইট করেন, 'আমি তো খান টাইগারের বেগম হয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে অপহরণ করতে এসেছিল। সে রাতে যদি আমি এবং আমার মা বোরখা পরে দিনাজপুর থেকে পালাতে না পারতাম।'

এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রূপা কি তা হলে এখন শরণার্থী? তাকে কি নয়া আইনে নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে হবে?

তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় তো নিজেই বলছেন, উনি বোরখা পরে এসেছেন। উনি তো নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি! সে ক্ষেত্রে তো উনি নাগরিক নন, এক জন অনুপ্রবেশকারী! তা হলে বিজেপি তাকে সাংসদ করল কী করে? এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত।

এর উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, রূপা শরণার্থী হয়ে থাকলে কালই নাগরিকত্বের আবেদন করবেন এবং পেয়েও যাবেন। আর শরণার্থী অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম অনেক রাজ্য থেকেই অনেকে সাংসদ হয়েছেন।

দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে আরও এক ঝাঁক প্রশ্ন। এক, 'অ-নাগরিক' সাংসদদের নিয়ে গঠিত সরকার কি বৈধ? দুই, রূপার মতো যত মানুষ বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন, তাদের প্রায় সকলেই ইতিমধ্যে এ দেশে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ নাগরিকত্বের নানা বৈধ নথি পেয়েছেন। অনেকের নিজস্ব সম্পত্তিও আছে।

তাদের অনেকেই এ দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি বা ব্যবসা করছেন। সেক্ষেত্রে আইনি পথে 'নাগরিকত্ব' পাওয়ার আগের ওইসব নথি কি গ্রাহ্য়? যদি গ্রাহ্য না হয়, তা হলে তারা কি শরণার্থী হিসাবেই নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করছেন? এটা কি স্ববিরোধিতা নয়?

এখানেই বিজেপিসহ গেরুয়া শিবিরের নেতারা নয়া তত্ত্ব নিয়ে মাঠে নামছেন- ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ যে ১৪টি নথি এখন ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হয়, তার একটাও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। স্বাধীনতার পর একের পর এক ভোট দিয়ে যারা সরকার গড়েছেন, তারাও নাগরিক নন। নাগরিকত্ব আইনের আওতায় সকলকেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে।

আরও পড়ুন

×