ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গোল ডটকমের রেটিং

হাইতি বধে সেরা ভিনি-পাকুয়েতা, বাকিরা কেমন খেললেন

হাইতি বধে সেরা ভিনি-পাকুয়েতা, বাকিরা কেমন খেললেন
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৩:০৭ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ১৩:১০

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেনি ব্রাজিল। ১-১ গোলের ড্রয়ের পর সমালোচনার তীর ছুটে এসেছিল চারদিক থেকে। ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, বিশ্বমঞ্চে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সেই চিরচেনা জৌলুস কি তবে হারিয়ে গেল? প্রশ্ন উঠেছিল ডন কার্লো আনচেলত্তির দলকে ঘিরে, প্রশ্ন ছিল আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়েও। তবে হাইতিকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে সেই সব প্রশ্নের অনেকটাই জবাব দিয়েছে সেলেসাওরা।

ফিলাডেলফিয়ার ম্যাচটি যেন ছিল রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পায়ে সুর বাঁধার রাত। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে হাইতির রক্ষণভাগকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। গোল করেছেন, করিয়েছেন। ব্রাজিলের জালের দিকে ছুটে যাওয়া প্রতিটি আক্রমণের পেছনেই ছিল তার জাদুকরী স্পর্শ।

ম্যাচ শেষে বরাবরের মতোই ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে রেটিং দিয়েছে ফুটবল বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’। তাদের মূল্যায়নে হাইতিকে লণ্ডভণ্ড করার রাতে ব্রাজিলের দুই তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লুকাস পাকুয়েতা ছাড়া আর কেউ দশে ৮ পাননি। অন্যদিকে জয়ের রাতেও মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ ম্লান ছিলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো।

গোল ডটকমের রেটিংয়ে জেনে নিতে পারেন ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা কে কত নম্বর পাওয়ার মতো খেলেছেন-

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৮/১০): ব্রাজিলের আক্রমণভাগের আসল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। প্রথম গোলের আক্রমণটি ছিল তার, দ্বিতীয় গোলে কুনহাকে অ্যাসিস্ট করেন এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে নিজেই করেন দুর্দান্ত এক গোল। মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত হাইতির ডিফেন্ডারদের তটস্থ করে রেখেছিলেন এই রিয়াল তারকা।

লুকাস পাকুয়েতা (৮/১০): মাঝমাঠে ভিনিসিয়ুসের সাথে তার রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। ইনজুরি টাইমে হাইতির ডিফেন্সের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া তার নিখুঁত পাস থেকেই গোল করেন ভিনি। চোট কাটিয়ে নেইমার ফিরলে পাকুয়েতা কীভাবে মানিয়ে নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মাতেউস কুনহা (৭/১০): প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে দলে নিজের স্ট্রাইকার পজিশনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তার কার্যকারিতা কিছুটা কমে আসায় ৭ নম্বর পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

ব্রুনো গিমারেজ (৭/১০): মাঝমাঠে বল কেড়ে নেওয়ার কাজটা ভালোই করেছেন। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই তারকার পাসিংও ছিল বেশ নিখুঁত।

রাফিনহা (৬/১০): ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিট বেশ প্রাণবন্ত ছিলেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। ১২ মিনিটে তার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিলও হয়। তবে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়া তার বিশ্বকাপ যাত্রাকেই এখন হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

ক্যাসেমিরো (৫/১০): ব্রাজিলের পুরো একাদশের মধ্যে সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। মাঝমাঠে বেশ ধীরগতির ছিলেন। দূরপাল্লার বেশ কিছু পাস বাড়াতে গিয়ে বারবার খেই হারিয়েছেন, যার একটিও সফল হয়নি।

অ্যালিসন বেকার (৭/১০): হাইতির আক্রমণভাগ ব্রাজিল ডিফেন্স ভাঙতে না পারায় খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি লিভারপুল গোলরক্ষককে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একটি দুর্দান্ত ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক সেভ’ করে নিজের জাত চিনিয়েছেন।

গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েস (৭/১০): রক্ষণভাগে সবচেয়ে বেশি বল টাচ করেছেন আর্সেনালের এই ডিফেন্ডার। বুদ্ধিমত্তার সাথে হাইতির আক্রমণগুলো নসাৎ করেছেন।

মার্কুইনহোস (৭/১০): ডিফেন্স লাইনের নেতা হিসেবে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই সময়োপযোগী ট্যাকল করে দলকে বিপদমুক্ত করেছেন।

ডানিলো ও ডগলাস সান্তোস (৬/১০): দুই ফুল-ব্যাকই নিজেদের পজিশনে মোটামুটি ভালো করলেও ডগলাস সান্তোসকে মূলত ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের রক্ষণভাগের ঘাটতি পূরণ করতে। আর দানিলো উইংয়ে দু-একবার হাইতিয়ান উইঙ্গারদের কাছে পরাস্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×