ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

শ্রীলঙ্কা কেন দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে

শ্রীলঙ্কা কেন দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২২ | ২৩:৪৭

শ্রীলঙ্কার আর্থিক ও মানবিক সংকট গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। আমদানি করা পণ্যের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি জনজীবনকে পর্যদুস্ত করে দিচ্ছে। পুরো ব্যবস্থা ধসের আশঙ্কায় 'অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা' জারি করা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে দেশটি ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে পৌঁছে যাওয়ায় বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে সংকট মোকাবিলার সামর্থ্যও নেই সরকারের। কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফাস্টপোস্টের এক প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের কারণ ও সরকারের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট এবং অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ম্ফীতি বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে দেশটি অর্থনৈতিক দেউলিয়া হওয়ার দিকে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে শ্রীলঙ্কার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। খাদ্য-মুদ্রাস্ম্ফীতি ২১ দশমিক ৫ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে। সুপার মার্কেটের তাকগুলো খালি পড়ে রয়েছে। রেস্তোরাঁগুলোতে খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরে সেখানে পণ্যের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে, যা তার আগের মাসের চেয়ে ১১ দশমিক ১ গুণ। আদমশুমারি ও পরিসংখ্যান বিভাগ বলছে, ২০১৫ থেকে গত বছরের শেষ সময়ের মধ্যে গত ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ম্ফীতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ কমছে। সে সময়ে সাড়ে ৭ বিলিয়ন ছিল, যা কমে গত ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ১ বিলিয়নে দাঁড়ায়, যা দিয়ে দেশটির মানুষের জন্য মাত্র দুই মাসের খাবার আমদানি করা সম্ভব।

বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হারও খুব বেশি। করোনা দেশটির পর্যটন শিল্পকে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে, যা হাজারো মানুষকে চাকরিহারা করেছে। বয়স্ক নাগরিকরা দেশটির চলমান অবস্থাকে ১৯৭০-এর দশকের দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার পাশাপাশি এমন দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির প্রধান কারণ সরকারের উচ্চ ব্যয় এবং ট্যাক্স হ্রাস, যা রাজস্ব খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া বিপর্যয়কর পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়ন শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত মে মাসে সরকার আকস্মিকভাবে সার ও কীটনাশক নিষিদ্ধ করে অর্গানিক পদ্ধতি অনুসরণের জন্য কৃষকদের বাধ্য করে। এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে আসে। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আরেকটি কারণ বিশাল বৈদেশিক ঋণ। শুধু চীনের কাছ থেকেই ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নিয়েছে তারা। গত বছর সংকটের মধ্যে আরও এক বিলিয়ন ডলার নেয় কলম্বো। এখন এসব ঋণ কিস্তিতে তাদের শোধ করতে হচ্ছে। শুধু চীন নয়; ভারত ও জাপানের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছে তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অজিত নিভার্ড বলেছেন, শ্রীলঙ্কা নিরবচ্ছিন্নভাবে তার ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবে। সরকার ঘোষণা করেছে, সংকট মোকাবিলায় তাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ৪ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ত্রাণ প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন

×