ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

শাপলা চত্বরে হত্যার ঘটনা ছিল পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক: চিফ প্রসিকিউটর

শাপলা চত্বরে হত্যার ঘটনা ছিল পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক: চিফ প্রসিকিউটর
×

নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫৬ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫৮

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশে হত্যার ঘটনা ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ। এটি ছিল পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ। ব্যাপক এই হত্যাকাণ্ড সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি রয়েছে। কারণ, যখন ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করছিলেন, ঠিক তখনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এই সংগঠনটিকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য নানা পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এমন হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে এখন পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারকীয় ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। এজন্য হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি। আশা করছি, ২১ জুলাই এটি ফরমাল চার্জ আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। 

আসামিদের তালিকায় কারা রয়েছেন- জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিবেদনটি খসড়া। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিদের তালিকা আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজির আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ বিজিবি প্রধানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খসড়া প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।

তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদন হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। হেফাজত ইসলামের নেতারা এ ঘটনার জ্বলন্ত বা প্রত্যক্ষ সাক্ষী। 

মামলায় আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন- একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, সাবেক আইজিপি, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।  

ব্রিফিংয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক জানান, শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন- নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেক তথ্য এখনো অনুপস্থিত। তার মতে, সেসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিহতদের মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়েছিল। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে তাদের কাছে সংরক্ষিত প্রামাণ্য তথ্য অনুযায়ী ৬১ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিন সকালে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আল্লামা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×