ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি

রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ আটজনের কারাদণ্ড

রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ আটজনের কারাদণ্ড
×
×

ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৪৭

পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম পৃথক দুই ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।

রায়ে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ৪০৫ নম্বর সড়কের ১১ ও ১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্লট দুটি ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার।

দুদকের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খন্দকার শামীম হোসেন জানান, অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে আট আসামিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে জানান কৌঁসুলি শামীম। ফলে আসামিদের মোট সাত বছর কারাভোগ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু জানান, আসামিরা এত দিন জামিনে ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার দিন তারা আদালতে হাজির হননি। এ কারণে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবরের মধ্যে রাজউকের কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়। তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×