ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দুই বছরে ৭ মামলায় ৬৮ জনের সাজা

মৃত্যুদণ্ড ২৩, যাবজ্জীবন ১১, বাকি সাজা বিভিন্ন মেয়াদে

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দুই বছরে ৭ মামলায় ৬৮ জনের সাজা
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

পুনর্গঠনের দুই বছরে জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের সাজার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডিত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৭ জন এখনও পলাতক।

ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরু হয় জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের বিচার। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন হত্যা, গুম, নির্যাতনসহ নানা অপরাধের বিচারও চলতে থাকে। এরই মধ্যে মামলা বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালের ১৮ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে দ্রুতগতিতে। দুই বছর আগে পুনর্গঠন হওয়া ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তি আজ। 

এরই মধ্যে রায় হওয়া জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাত মামলায় মৃত্যুদণ্ডদেশপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ পুলিশের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৩ জনের মধ্যে চারজন কারাগারে আছেন।

এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল ১১ জনকে যাবজ্জীবন ও ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। দুটি ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ৭০টি মামলা বিচারাধীন। অনেক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ পর্যায়ে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জমা রয়েছে ৫৯৩টি অভিযোগ। তদন্তের অপেক্ষায় থাকা এসব অভিযোগের সম্ভাব্য আসামির সংখ্যা তিন হাজারের বেশি বলে জানা গেছে। 

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি রায়ের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়েছে। সর্বশেষ জাসদ একাংশের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গত ৫ অক্টোবর আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। 
জানতে চাইলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সমকালকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের দুই বছরের কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট। গত বছরের চেয়ে আরও দ্রুতগতিতে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

আগের ট্রাইব্যুনালের বিচার
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয় ২০১২ সালের ২২ মার্চ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ওই দুটি ট্রাইব্যুনালে ৫৬টি মামলায় ১৯৭ জনের বিচার হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন খালাস পান এবং ১৯৫ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান। ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আগের ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রায় তিন বছর পর প্রথম রায় এসেছিল ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন রুকন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। তিনি পলাতক থাকায় দণ্ড কার্যকর হয়নি। পুনর্গঠনের পর ১১ মাসের মধ্যেই বর্তমান ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায় দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। 

এদিকে তদন্ত সংস্থার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সে অনুযায়ী প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তা জরুরি ভিত্তিতে বাড়ানো দরকার। অন্যথায় মামলা নিষ্পত্তি ধীরগতি হয়ে পড়বে। 

আরও পড়ুন

×