বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে কী করবেন
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:২৭
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের পর শুরু হয়েছে স্বস্তির বৃষ্টি। যদিও এই স্বস্তির বৃষ্টির সাথে আসা বজ্রপাত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বজ্রঝড়-বজ্রপাত হয়। বছরের এই সময়টাতে প্রায় প্রতিদিনই পাওয়া যায় বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর। ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যেমন-
১. ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনও পাকা দালানের নীচে আশ্রয় নিতে পারেন। টিনের ছাউনি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকুন। এসব স্থানে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ঝড়বৃষ্টির সময় এসব জায়গায় যাবেন না বা কাছাকাছি থাকবেন না। ফাঁকা জায়গায় কোনও যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।
৩. ঘরের ভেতরে থাকলেও জানালা থেকে দূরে থাকুন। বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন।
৪. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করা যাবে না। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে আহত হন।
৫. বজ্রপাতের সময় টিভি-ফ্রিজসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। বজ্রপাতের পূর্বাভাস পেলে আগেই টিভি-ফ্রিজের প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন।
৬. বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।
৭. বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। এ সময় পা ঢাকা জুতো পড়ে বের হোন। রবারের জুতা হলে ভালো হয়।
৮. বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যান। বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু কোনো স্থানে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যান।
৯. বজ্রপাতের সময় আপনি যদি ছোট কোনো পুকুরে সাঁতার কাটেন বা জলাবদ্ধ স্থানে থাকেন তাহলে সেখান থেকে সরে পড়ুন। পানি খুব বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহী।
১০. বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, তাই দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
- বিষয় :
- বজ্রপাতে মৃত্যু
