ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কোন ভিটামিনের অভাবে অতিরিক্ত ঘাম হয়?

কোন ভিটামিনের অভাবে অতিরিক্ত ঘাম হয়?
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১২:৪৬

ঘাম শরীরকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া মোটেও ভালো নয় ৷ এতে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়। শরীর হয়ে পড়ে পানিশূন্য।  একাধিক কারণে শরীরে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে৷ তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল ভিটামিনের অভাব৷ সাধারণত শরীরে নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি হলে ঘাম বেড়ে যায়। 

নিউজ এইট্টিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনও একটি ভিটামিনের অভাব সরাসরি অতিরিক্ত ঘামের কারণ নয়৷ কিন্তু ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং থায়ামিন (বি১)-এর ঘাটতির ফলে স্নায়ুতন্ত্র বা শরীরের তাপমাত্রা ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা অস্বাভাবিক ঘাম বা রাতে ঘামের কারণ হয়। 

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিটামিন ডি-এর অভাবের লক্ষণে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক কালো হয়ে যাওয়া এড়াতে আজকাল অনেক মানুষ খুব কম রোদে বের হন। এর ফলে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা দিচ্ছে। ক্রমাগত ক্লান্ত বোধ করাও ভিটামিন ডি-এর অভাবের একটি লক্ষণ। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে দৈনন্দিন কাজ সঠিকভাবে করা কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে মাথা ঘোরা, হাড়ের ব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি এবং বিষণ্ণতাও হতে পারে। তৈলাক্ত মাছ, দুগ্ধজাত খাবার, মাশরুম এবং সূর্যের আলো এই অভাব পূরণে সাহায্য করতে পারে। 

একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এগুলো শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে এবং ঘাম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এর অর্থ হল, সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অতিরিক্ত ঘাম প্রতিরোধ করতে পারে। বি কমপ্লেক্স ভিটামিন স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শক্তির মাত্রা, কোষের বিপাক এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করে। মানসিক চাপের কারণে স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ঘাম হয়, যা সাধারণত ভিটামিন বি-এর ঘাটতির কারণে ঘটে থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি গ্রহণ অতিরিক্ত ঘাম প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন বি১২-এর তীব্র অভাব অনেক সময় অতিরিক্ত ঘাম বা রাতের ঘামের কারণ হতে পারে। এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুর কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বি১-এর অভাব হলে স্নায়ুতন্ত্র এবং আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ শীতলীকরণ ও তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। 

ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাগনেসিয়াম বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত ঘামের ফলে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে, যা মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে। বাদাম, পালং শাক এবং সয়াবিনের মতো ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ উৎস গ্রহণ করলে তা শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ঘাম কমাতে সাহায্য করতে পারে। 
ক্যালসিয়াম একটি খনিজ পদার্থ যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দুগ্ধজাত খাবার, সয়াবিন, সবুজ শাকসবজি এবং বাদাম শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন

×