ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিবারে একজন অসুস্থ হলে বাকিরাও অসুস্থ, সংক্রমণ ঠেকাতে করণীয়

পরিবারে একজন অসুস্থ হলে বাকিরাও অসুস্থ, সংক্রমণ ঠেকাতে করণীয়
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৭ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৫৭

পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হওয়ার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্য সদস্যদের মধ্যেও জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা কিংবা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একই ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা, কাছাকাছি থেকে কথা বলা, কাশি-হাঁচি এবং একই জিনিসপত্র ব্যবহারের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই পরিবারের একজন অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই কিছু সতর্কতা মেনে চললে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

অসুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রাখুন

পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে সম্ভব হলে তাকে আলাদা একটি ঘরে রাখুন। একই ঘরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এবং অপ্রয়োজনে কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলুন। খাবার, পানি বা ওষুধ দেওয়ার জন্য পরিবারের একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য দায়িত্ব নিতে পারেন। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা ভালো।

ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন

বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে জানালা খুলে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। একই ঘরে অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় অবস্থান না করাই ভালো। এসি ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

মাস্ক ব্যবহার করুন

অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে রোগীর পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য ভালোভাবে ফিট হয় এমন মাস্ক ব্যবহার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। অসুস্থ ব্যক্তিকেও অন্য সদস্যদের কাছাকাছি যেতে হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হাত পরিষ্কার রাখুন

সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে, বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর, খাবার খাওয়ার আগে এবং চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়ার আগে। কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু অথবা কনুইয়ের ভাঁজ ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস।

বেশি ব্যবহৃত জিনিস পরিষ্কার করুন

দরজার হাতল, লাইটের সুইচ, রিমোট, মোবাইল ফোন, টেবিল, পানির কল ও টয়লেটের মতো পরিবারের সবাই ব্যবহার করেন এমন জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। অসুস্থ ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপ, প্লেট ও অন্যান্য জিনিসও ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। কাপড়চোপড় ও বিছানার চাদর নিয়মিত পরিষ্কার রাখার দিকেও নজর দিতে হবে।

উপসর্গের দিকে নজর রাখুন

পরিবারের একজন অসুস্থ হওয়ার পর অন্য সদস্যদের শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। জ্বর, কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের বাড়তি সতর্কতা

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাঁদের আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে। তাই পরিবারের এমন সদস্যদের অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা এবং তাঁদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বিশ্রামও জরুরি

অসুস্থ ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন এবং শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো সংক্রমণ সারাতে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন

সাধারণ জ্বর, সর্দি বা কাশির সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, বিভ্রান্তি বা অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

পরিবারে একজন অসুস্থ হলেই যে একে একে সবাই আক্রান্ত হবেন, এমন নয়। তবে শুরু থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা, হাত পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং নিয়মিত ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার করার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

আরও পড়ুন

×