বন্যায় ফসলহানি, ঋণগ্রস্ত জেলের স্ট্রোকে মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩১
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বন্যায় ফসলহানি, ঋণের কিস্তির চাপ, মাছ ধরতে না পারা এবং পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্ট্রোক করে জেলে বিকাশ মিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। গতকাল রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তাঁর স্ত্রী সনজিতা আক্তার।
এর আগে শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে পলাতক থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা যান বিকাশ মিয়া। তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় গ্রামের আহম্মেদ সাইরেলের ছেলে।
জানা গেছে, মোহনগঞ্জের মাঘান কুড়েরপাড় গ্রামের বিকাশ মিয়া হাওরে পাঁচ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। ধান চাষ করতে গিয়ে অনেক ঋণ করেন। অতিবৃষ্টির পানিতে ধান ডুবে নষ্ট হয়। পরে আবার ঋণ নিয়ে জাল কিনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু হাওরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পারায় ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ১১ জুলাই হাওরে মাছ ধরতে গেলে বিকাশ মিয়াসহ কয়েকজন জেলের খনা জাল জব্দ করে পুলিশ। পরে স্থানীয় জেলেরা থানা থেকে জব্দ করা জাল নিয়ে যান। এই ঘটনায় ১৩ জুলাই ৬৫ জনের নাম উল্লেখ এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় বিকাশের ভাতিজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ১৪ জুলাই বিকাশ মিয়া পাশের উপজেলা ধর্মপাশায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
স্থানীয় জেলে ওসমান গনি বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা মাছ ধরিনি। এখন স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা দরকার।’
মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, বিকাশ মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর জানা নেই। মামলার পর মামুন ও জাকির নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর ওই এলাকায় পুলিশ আর কোনো অভিযান চালায়নি।
মোহনগঞ্জের ইউএনও আমেনা খাতুনের ভাষ্য, ২৮ জুনের পর থেকে মাছ ধরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- নেত্রকোনা