সুপারস্টার শাকিবের রকস্টার হয়ে ওঠার গল্প
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৭:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢালিউডের চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের অনেকের কাছেই হিসাবটা প্রায় একই–এক থেকে পাঁচ–সবখানেই যেন একাই শাকিব খান। তারপর শুরু হয় অন্যদের অবস্থান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখা এই অভিনেতার ক্যারিয়ার শুধু জনপ্রিয়তার গল্প নয়, বরং নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন করে আবিষ্কারেরও গল্প।
২৬ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেখেছেন সিঙ্গেল স্ক্রিনের স্বর্ণসময়, মাল্টিপ্লেক্সের উত্থান, ওটিটির আগ্রাসন, দর্শকের রুচির পরিবর্তন; কিন্তু সবকিছুর মাঝেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন অদ্ভুত এক স্থিরতায়। একসময় বছরে ১০-১২টি সিনেমায় অভিনয় করেও যেমন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, এখন বছরে দুই ঈদে দুটি সিনেমা করেও তিনিই থাকেন ক্যামেরার মূল ফোকাসে।
গেল ঈদে মুক্তি পেয়েছিল তার অভিনীত সিনেমা ‘প্রিন্স’। বড় বাজেট, জমকালো প্রচারণা আর দর্শকের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। আশ্চর্যজনকভাবে সেই ব্যর্থতার আঁচও যেন স্পর্শ করতে পারেনি শাকিব খানকে। কারণ তিনি জানেন, ঢালিউডে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় কৌশল হচ্ছে থেমে না থাকা।
‘প্রিন্স’ মুক্তির পরপরই তিনি শুরু করেন নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’-এর কাজ। নাম থেকেই যার ভেতরে আছে তারকাখ্যাতি, সংগীত, উন্মাদনা আর স্টাইলের ইঙ্গিত। তবে শুধু গল্প নয়, এ সিনেমায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে শাকিব খানের বদলে যাওয়া উপস্থিতি।
অ্যানিমেশন টিজার, টিজার ও প্রথম গান প্রকাশের পর গতকাল প্রকাশিত হয়েছে রকস্টারের দ্বিতীয় টিজার। প্রকাশিত ওইসব টিজারে দেখা গেছে একেবারে নতুন এক শাকিব খানকে– ছিপছিপে, মেদহীন, অনেক বেশি স্টাইলিশ এবং আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক বছরে তাঁর সিনেমাগুলোতে যে শারীরিক ভারিক্কি ভাব দেখা গিয়েছিল, ‘রকস্টার’-এ এসে যেন সেখান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছেন তিনি। পর্দায় তার হাঁটা, চোখের অভিব্যক্তি, লুক কিংবা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ–সবকিছুতেই রয়েছে নতুনত্বের ইঙ্গিত।
চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘প্রিন্স যতটা হতাশ করেছে রকস্টার ততটাই আশাবাদী করছে অনুরাগীদের। সিনেমাটিকে অনেকটা শাকিব খানের নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের প্রকল্পও বলছেন কেউ কেউ। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হলে নিজেকেও বদলাতে হয় সময়ের সঙ্গে, সিনেমার গল্পে ও বাস্তবতায়।
শুধু লুক নয়, জানা গেছে চরিত্রটির জন্য নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনেও পরিবর্তন এনেছেন এই অভিনেতা। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা থেকে শুরু করে স্টাইলিং–সবকিছুতেই ছিল আলাদা মনোযোগ। কারণ তিনি জানতেন, রকস্টার-এর দর্শক শুধু গল্প দেখবে না, তারা দেখবে একজন সুপারস্টারের পুনর্জন্মও।
সিনেমাটি নিয়ে শাকিব খান বললেন, ‘প্রতিটি প্রজেক্ট আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতার। নতুন কিছু দেওয়ার। রকস্টারও ব্যতিক্রম নয়। আমাকে যারা ভালোবাসেন তারা এবার রকস্টারের মাধ্যমেও দারুণ কিছু পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে মিউজিক্যাল ফিল্ম খুব একটা হয়নি। এটি মিউজিক্যাল ফিল্ম। সেই সঙ্গে একজন রকস্টারের জীবনের গল্প। সব মিলিয়ে সিনেমাটি সব শ্রেণির দর্শকের জন্যই উপভোগ্য হবে।’
শীর্ষ তারকা নিজেই যখন সিনেমাটিতে অভিনয় করে তুষ্টিতে আছেন তাতে ধরেই নেওয়া যায় সিনেমাটিও দর্শকদের তুষ্ট করবে। ইতোমধ্যে সিনেমাটি ঈদের সিনেমার মধ্যে প্রচার-প্রচারণাতেও সবাইক ছাড়িয়ে আছে। সিনেমাটির নির্মাতা হিসেবে আছেন আজমান রুশো। পরিচালক নিজেও একজন সংগীতপ্রেমী। দীর্ঘকাল সংগীতচর্চায় জীবন অতিবাহিত করেছেন। যুক্ত আছেন বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গেও। সিনেমাটিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয়ে আছেন সাবিলা নূর। সব মিলিয়ে সিনেমাটি রয়েছে আলোচনায়; যার মধ্যমণি হচ্ছেন ঢাকাই ছবির কিং খান।
শাকিব খানকে নিয়ে মাঝেই মধ্যেই চর্চা উঠে এই বুঝি দিন শেষ এই তারকার। সেটি কেবল সমালোচকদের মুখেমুখেই। দিন আর শেষ হয় না। প্রতিবারই এমন আলোচনার পর নতুন করে জ্বলে ওঠেন তিনি। ৫০ ছুঁই ছুঁই বয়স এখন এই তারকার। তবে চলনে বলনে এখনও যেন ৩০-এর ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছেন।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তায় থাকা অনেক তারকার ক্যারিয়ার এক সময় এসে স্থির হয়ে গেছে। শাকিব খান যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটেন। প্রতিবারই যখন মনে হয় তাঁর আর নতুন কিছু দেখানোর নেই, তখনই তিনি হাজির হন ভিন্ন এক
চমক নিয়ে।
- বিষয় :
- সুপারস্টার
