মিনিয়নদের দুনিয়ায় মনস্টারের তাণ্ডব
মীর সামী
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
হলুদ রঙের ছোট্ট, দুষ্টু আর চঞ্চল মিনিয়নদের নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়ের। তাদের অদ্ভুত ভাষা, এলোমেলো কাণ্ডকারখানা আর হাস্যকর বিপত্তি শিশুদের যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি বড়দেরও ফিরিয়ে নেয় বিনোদনের জগতে। ‘ডেসপিকেবল মি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে জনপ্রিয় এই চরিত্রগুলো এবার হাজির হয়েছে একেবারে নতুন এক অভিযানে। গতকাল মুক্তি পেয়েছে মিনিয়নদের নতুন সিনেমা ‘মিনিয়ন্স অ্যান্ড মনস্টার’। এই সিনেমায় তারা শুধু দুষ্টুমি করেই থেমে থাকেনি, বরং পুরো হলিউড আর পৃথিবীকে ফেলে দিয়েছে এক বিশৃঙ্খলার মধ্যে। এবারের গল্পের পটভূমি ১৯২০ সালের হলিউড। তখন নির্বাক চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ চলছে। সিনেমার পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে, নতুন নতুন প্রযুক্তি আর কল্পনার বিস্ময়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক অসাধারণ সিনেমা। সেই সময়েই দুই মিনিয়ন। হেনরি ও জেমস স্বপ্ন দেখে সিনেমা বানানোর। তাদের স্বপ্ন কোনো সাধারণ সিনেমা নয়, বরং ভয়ংকর সব দানব-দানবীকে নিয়ে একটি মনস্টার চলচ্চিত্র নির্মাণ করা। কিন্তু মিনিয়নদের পরিকল্পনা মানেই তো বিপত্তি অবধারিত। মনস্টারের খোঁজে বেরিয়ে তারা এমন সব ঘটনার জন্ম দেয়, যা শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মনস্টারদের খুঁজতে গিয়ে মিনিয়নরা এমন সব প্রাণীকে মুক্ত করে দেয়, যাদের পৃথিবীতে আসার কথা ছিল না। মুহূর্তেই হলিউডের স্টুডিওগুলো পরিণত হয় আতঙ্কের নগরীতে। শুটিং সেট ভেঙে পড়ে, শহরে শুরু হয় তাণ্ডব, আর সেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। নিজেদের ভুলের দায় কাঁধে নিয়েই আবার সেই বিপদ মোকাবিলায় নেমে পড়ে মিনিয়নরা। ফলে ছবিটি কেবল হাস্যরসেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এতে যোগ হয়েছে রোমাঞ্চ, অ্যাকশন আর আবেগেরও ছোঁয়া। তবে ছবির সবচেয়ে বড় চমক গল্প নয়, এর নির্মাণভাবনা। পরিচালক পিয়ের কোফাঁ পুরোনো হলিউডের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এই ছবির মাধ্যমে। নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ, সাদা-কালো সিনেমা, ক্ল্যাসিক মনস্টার মুভি, কিংবদন্তি নির্মাতা ও চলচ্চিত্র ইতিহাস মজার ছলে ফুটিয়ে তুলেছেন। ফলে শিশুদের কাছে এটি যেমন হাসি-আনন্দের সিনেমা, তেমনি সিনেমাপ্রেমী বড়দের জন্যও রয়েছে অসংখ্য রেফারেন্স।
এই সিনেমায় পিয়ের কোফাঁর সঙ্গে সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন প্যাট্রিক ডেলাজ। চিত্রনাট্য লিখেছেন ব্রায়ান লিঞ্চ ও কোফাঁ। মিনিয়নদের কণ্ঠ দিয়েছেন বরাবরের মতো কোফাঁ নিজেই। পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন জেফ ব্রিজেস, ক্রিস্টফ ভালৎজ, জেসি আইজেনবার্গ, জোই ডয়েচ, অ্যালিসন জ্যানি, ট্রে পার্কারসহ আরও অনেকে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছবিটি বেশ সমৃদ্ধ। আগের সিনেমাগুলোর তুলনায় অ্যানিমেশনে আরও সূক্ষ্মতা আনা হয়েছে।
মনস্টারদের নকশা, পুরোনো হলিউডের সেট, আলো-ছায়ার ব্যবহার এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি মুহূর্তই প্রাণবন্ত মনে হয়। একই সঙ্গে মিনিয়নদের পরিচিত হাস্যরসও অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তাদের অদ্ভুত ভাষা, ভুল বোঝাবুঝি আর একের পর এক বিপত্তি দর্শককে হাসাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু আরেকটি মিনিয়ন সিনেমা নয়; বরং পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম সৃজনশীল অধ্যায়।
পুরোনো হলিউডের ইতিহাস, মনস্টার সিনেমার ঐতিহ্য এবং মিনিয়নদের স্বভাবসুলভ বিশৃঙ্খলাকে এক সুতোয় গেঁথে নির্মাতারা এমন একটি চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন, যা একই সঙ্গে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক–দুই প্রজন্মের দর্শকের কাছেই সমান উপভোগ্য। প্রায় ৯০ মিনিটের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র তাই শুধু হাসির খোরাক নয়, বরং কল্পনা, সিনেমার ইতিহাস আর অ্যাডভেঞ্চারের এক রঙিন মিশেল। মিনিয়নদের দুষ্টুমি আর মনস্টারদের তাণ্ডব মিলিয়ে ‘মিনিয়ন্স অ্যান্ড মনস্টার’ হয়ে উঠেছে পরিবারের একসঙ্গে উপভোগ করার মতো একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের প্যাকেজ।
- বিষয় :
- বিনোদন
