ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, হাসপাতালে মৃত্যু

চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, হাসপাতালে মৃত্যু
×

নড়াইল সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২০:০৫

নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত আনোয়ার নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম এলাকার কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

এর আগে গত ২৫ জুন দিবাগত রাতে সদর উপজেলার গোবরা গ্রামে তাকে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।  

এ ঘটনায় গত ২৯ জুন রাতে আনোয়ারের বড় ভাই নবীর হোসেন বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসকে। তারা সবাই গোবরা মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনোয়ার হোসেন একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তারা জানতে পারেন, আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ভর্তি রয়েছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে সারারাত মারধর করেন। একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জুন সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন

×