ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ তুলে লাইভে আসা সেই নারীর বিরুদ্ধে মামলা
রেহেনা বেগম উর্মি। ছবি: সংগৃহীত
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২১:০১ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৬
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করা রেহেনা বেগম উর্মি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
বুধবার তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি করেন উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন। মামলায় রেহেনা বেগম উর্মিসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গত সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেসবুক লাইভে এসে ওই নারী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু তার কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও দেন।
অভিযোগে রেহেনা বেগম উর্মি উল্লেখ করেন, ছেলের চাকরির জন্য ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ধারদেনা করে প্রথম দফায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। চাকরি হলে বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন চাকরি না দেওয়ায় তিনি প্রতিকার চান।
এরই মধ্যে গত ২৪ জুন ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে তাঁরাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়। এরপর তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে লাইভে এই অভিযোগ করেন।
লাইভে তিনি বলেন, আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন; কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন, আমি গরীব মানুষ। একই সঙ্গে অভিযোগ তোলার পর তাকে মোবাইল কোর্টে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউএনওর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি রেহেনা বেগম উর্মিকে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি। তিনি বলেন, যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও ছিল না। তার দাবি, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে।
তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দুই তিন জায়গায় অভিযান করেছি। আসামিকে ধরার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- পঞ্চগড়
- তেঁতুলিয়া
- ইউএনও
- সাইবার আইন
