পরীক্ষার হলে মা, বাইরে নানির কোলে নবজাতক
ছবি- সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২২:২১
নবজাতককে নানির কোলে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রসূতি বিথি। বৃহস্পতিবার সকালে শেরপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। বিথি শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।
নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিথির শিক্ষাজীবন ধরে রাখার অদম্য আগ্রহের প্রশংসা করেছেন শিক্ষকরা। পৌর শহরের কসবা কাচারিপাড়ার বাসিন্দা বিথি পড়ালেখা চালিয়ে নিতে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও নিজের মা-বাবার প্রতি।
জানা গেছে, কলেজে ভর্তি হওয়ার পরপরই বিথির বিয়ে হয়ে যায়। এরপর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অনেক কষ্টে তিনি নিজের গর্ভের সন্তানকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যান। এরই মধ্যে পরীক্ষার মাত্র এক সপ্তাহ আগে সন্তান প্রসব করেন। কিছু শারীরিক জটিলতা থাকার পরও তিনি হার মানেননি। নবজাতকের দেখভাল করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
বিথির ভাষ্য, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে স্বামী, শাশুড়ি এবং তাঁর মা অনেক সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে মায়ের যত্নের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, গত বুধবার সারারাত তাঁর মা তাঁর ছেলেকে নিজের কাছে রেখেছেন। বৃহস্পতিবার প্রায় ৪ ঘণ্টা পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে তাঁকে কোলে রেখে যত্ন করেছেন। এই ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা হয়নি। তবে বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে যেতে পারলে ভালো লাগত। কারণ ছেলের জন্য চিন্তায় ছিলাম। সাত দিনের শিশু, কোনো সমস্যা হয় কিনা।’ সব প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন এবং পরীক্ষা বেশ ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিথির মা জানান, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁর পড়ালেখা চালিয়ে নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন তারা। মেয়ে জামাইসহ দুই পরিবারের সবাই সহযোগিতা করেছেন।
চন্দ্রকোনা কলেজের প্রভাষক মহিউদ্দিন সোহেল বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই। বিথির মানসিক শক্তি দেখে খুব ভালো লাগছে। তিনি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।
শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আজম রেজাউল করিম খানের ভাষ্য, শিক্ষার্থী বিথি মেধাবী। সাত দিনের সন্তান রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। মাতৃত্ব ও শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন দুটোই এগিয়ে নেওয়ার যে আগ্রহ দেখিয়েছে বিথি– তাতে গর্বিত তারা।
শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রউফ বলেন, নবজাতককে বাইরে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সত্যিই কঠিন। তার যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য সচেতন রয়েছেন তারা।
