ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

পিয়নের কাছে ফরম পূরণের টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার দুই শিক্ষার্থী

পিয়নের কাছে ফরম পূরণের টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার দুই শিক্ষার্থী
×

ছবি: সমকাল

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২২:১১

এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও মূল পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজের পিয়নের আশ্বাসে তাঁর হাতে ফরম পূরণের টাকা তুলে দেন দুই শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তারা।

বৃহস্পতিবার পরীক্ষার শুরুর আগে প্রবেশপত্র না পেয়ে কলেজের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকলে বিষয়টি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগী মনিমুক্তা আক্তার এবং ইসমাত আরা বেগম নান্দাইল সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের শিক্ষার্থী। পিয়নের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র না পেয়ে সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের প্রধান ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন দুই শিক্ষার্থী।

এ সময় তাদের কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চাইলে মনিমুক্তা জানান, তারা দুজন নান্দাইলের সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী। এর আগে কলেজে অনুষ্ঠিত এইচএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় দুজনই দুটি করে বিষয়ে অকৃতকার্য হন। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনকে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি।

বিষয়টি দেখে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড অফিসে গিয়ে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কলেজের পিয়ন শাহাজাহান মিয়া। এতে টাকা বেশি লাগবে জানান তিনি। শর্ত দেন বিষয়টি কলেজের কাউকে বলা যাবে না। পিয়ন শাহজাহান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই দুই ছাত্রীর কাছ থেকে ২২ হাজার ৪০০ টাকা নেন। টাকা দিয়ে দুই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

এদিকে পরীক্ষার আগে সহপাঠীরা প্রবেশপত্র পেলেও মনিমুক্তা আক্তার ও ইসমাত আরার নামে কলেজে কোনো প্রবেশপত্র আসেনি। বিষয়টি জানতে পেরে দুই ছাত্রী পরীক্ষার আগের দিন গত বুধবার কলেজের পিয়ন শাহজহানের পায়ে পড়ে প্রবেশপত্র জোগাড় করে দিতে বলেন।

এ সময় পিয়ন শাহজাহান বলেন, ‘সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তিনজন লোককে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন, নিশ্চিত থাক তোমরা প্রবেশপত্র পাবে।’

পিয়ন শাহজাহানের আশ্বাস পেয়ে ওই দুই ছাত্রী বৃহস্পতিবার সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শাহজাহানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য কলেজ ফটকে যান। সেখানে এসে শাহজাহানের মোবাইল ফোনে কল দেন তারা। কিন্তু বারবার কল দিলেও শাহজাহানের নম্বরটি বন্ধ পেয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ প্রতারণার ঘটনায় শাহজাহানের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে পরীক্ষার পর ওই কলেজে গিয়ে পিয়ন শাহাজাহানকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইনামুল হক বলেন, শাহজাহান কলেজের পিয়ন। কিন্তু সে পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার মতো কেউ না। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×