ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মহাসচিবের কাছে পদবঞ্চিতদের নালিশ- ‘একসময়ের প্রভাবশালী যুবদল এখন মৃতপ্রায়’

মহাসচিবের কাছে পদবঞ্চিতদের নালিশ- ‘একসময়ের প্রভাবশালী যুবদল এখন মৃতপ্রায়’
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৭

সংখ্যায় তারা ৩০ থেকে ৩৫ জন। সবাই যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা। রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসভবনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ২০ মিনিট। এই অল্প সময়ের মধ্যেই একগাদা অভিযোগ তুলে ধরেন তারা। মহাসচিবের কাছে শুধু অভিযোগই নয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে যুবদলের সমসাময়িক কার্যক্রম নিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার সুযোগও চান ক্ষুব্ধ নেতারা।

বৃহস্পতিবার সকালে পদবঞ্চিত নেতারা মহাসচিবকে জানিয়েছেন, একসময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন যুবদল এখন মৃতপ্রায়। এখন এক নেতার খবরদারিতে চলছে যুবদল। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাতেই পরিচালিত হচ্ছে পুরো সংগঠন। ত্যাগী আর যোগ্যদের বাদ দিয়ে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংগঠনের শৃঙ্খলা আরও খারাপের দিকে চলে গেছে। যাচাই বাছাই ছাড়াই সারাদেশে নেতাকর্মী বহিষ্কার, ইচ্ছামতো দলে ফিরিয়ে আনা, সংগঠনের সাবেক নেতাদের তোয়াক্কা না করা, সম্মান না দেওয়ার মতো অনেক বিব্রতকর ঘটনা ঘটছে যুবদলের অভ্যন্তরে।

তারা বলেন, এই সংগঠনে এখন হেভিওয়েট কোনো নেতা তৈরি হয়নি। তেমনি কোনো কার্যক্রমও নেই। শক্তিশালী এই সংগঠনের সাংগঠনিক এই দুর্বলতা আগামীতে আরও প্রকট হতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিএনপিকে বহন করতে হবে। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব এই সংগঠনকে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই। 

বৈঠকে উপস্থিত পদবঞ্চিত এক নেতা বলেন, একসময়ের প্রভাবশালী অঙ্গসংগঠন যুবদলকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অযোগ্য নেতৃত্ব, তাদের অসাংগঠনিক আচরণে পুরো সংগঠন আজ নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। সংগঠনের শীর্ষ একজন নেতা কথায় কথায় যেমন নেতাকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, তেমনি কথায় কথায় দল থেকে বহিষ্কারও করেন।

তারা আরও বলেন, সংগঠনের এমন ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছেন শীর্ষ নেতারা। এতে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেকের রাজনৈতিক জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতার মধ্যে ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, যুবদলের সাবেক গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম রিয়ন, যুবদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান অলি উদ্দিন সুমন, মোহাম্মদ আসাদুল আলম টিটু, খালিদ মাহমুদ মাসুদ, গোলাম ফারুক, সাবেক সহক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক বি এম আমান উল্লাহ বিপুল, সহশিল্পবিষয়ক সম্পাদক আসাদুল হক টিটু, যুবদলের সাবেক সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম হিমেল, যুবদলের সাবেক সদস্য সরকার মামুন, শাহিনুজ্জামান মিন্টু, সেলিম হোসাইন মুন্না আকন্দ, মিজান খান, দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, মিজানুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে আবদুল মোনায়েম সভাপতি, রেজাউল কবীর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়ন সাধারণ সম্পাদক, বিল্লাল হোসেন তারেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েল সাংগঠনিক সম্পাদক ও নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়।

পরে প্রায় দুই বছর পর গত ৪ জুন সভাপতি আবদুল মোনায়েম ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বেই ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন

×