ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গুলিবিদ্ধ এনায়েত

জমির বিরোধে সাতকানিয়ায় হামলা, দুদিন পর মামলা

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গুলিবিদ্ধ এনায়েত
×

ফাইল ছবি

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ২৩:২৫

‘আমার বাবা এলাকায় কারও ক্ষতি করেছেন এমন নজির নাই। জায়গার বিরোধে একজন মানুষকে এভাবে নির্দয়ভাবে গুলি করে ও কুপিয়ে জখম করতে মানুষ পারে? ওরা পশু না অন্য কিছু?’ ক্ষুব্ধকণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়ে দেন মাহিমা জান্নাত। তাঁর বাবা এনায়েত আলী ফকিরকে (৪০) গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় কুপিয়ে ও গুলি করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন।

তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় গত বুধবার রাতে সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন মাহিমা জান্নাত। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ ও অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন–মো. বাদশা (৩৮), মো. কামরুল (৩০), মো. জিহান (২২), মো. ছাদেক (৩২) ও মো. আবছার (২৮)। তারা সবাই আমিলাইশ  ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আমিলাইশ উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। 

এনায়েত আলী ফকির চাষাবাদের পাশাপাশি বালু ব্যবসায় জড়িত। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এনায়েত আলী ফকির সোমবার রাতে পাশের বাড়ির এক মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে এনায়েতকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

এনায়েতের স্ত্রী জিন্নাত আরা বেগম বৃহস্পতিবার বলেন, ২০২৪ সালে ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে এলাকায় মারামারি হয়। এতে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাঁর স্বামীকে মামলায় আসামি করা হয়। তিনি জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পান। ২০২৫ সালের ঈদেও তাঁর মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে সাঈদকেও (১৯) মারধর করা হয়। সোমবারের হামলার আগে গত শুক্রবার রাতেও তাঁর স্বামীর ওপর হামলা হয়েছিল। 

মামলার এজাহারে মাহিমা জান্নাত উল্লেখ করেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে আদালতে মামলা চলছে। হামলাকারীরা তাঁর বাবাকে অতীতেও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। কয়েক দফায় হামলাও হয়েছে। 

মাহিমা বলেন, ‘আমার বাবা এখন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাঁর ডান হাতে অনেক গুলি করা হয়েছে। কিছু গুলি বের করা হয়েছে, আরও অনেক গুলি বের করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই চিকিৎসক বলছেন, এ হাত কেটে ফেলতে হবে। বাঁ পায়ে লোহার রড দিয়ে আঘাত ও গুলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ডান পায়ে ছুরিকাঘাত ও গুলি করা হয়েছে। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। রক্তক্ষরণের কারণে শরীরে রক্তের অভাব দেখা দিয়েছে। বলতে গেলে আমার বাবা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় খারাপ কিছু হতে পারে।’

মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তারা আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রায়হান রনি নামে একজনকে আটক করা হয়েছিল। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×