ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

অপহরণের পর নির্যাতনে মৃত্যু, ৩ দিন পর মামলা

গ্রেপ্তার নেই

অপহরণের পর নির্যাতনে মৃত্যু, ৩ দিন পর মামলা
×

ম্যাপ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০২:০৫ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০২:০৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সরকারি বনায়নের জায়গা দখল নিয়ে বিরোধের জেরে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু (৩৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিন পর হত্যা মামলা হয়েছে। গত বুধবার রাতে নিহতের ছোট ভাই মো. শাহ আলম বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও সাত-আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন– আকবর হোসেন বাঁচা, মো. হারুন, মো. ফোরকান এবং নিহতের সহোদর মো. ওসমান। মামলা হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকারি বনায়নের জায়গা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সঙ্গে নুরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২৩ জুন আসামিরা নুরুল ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ২৪ জুন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বড়দুয়ার ফরেস্ট অফিসের সামনে থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়।

পরদিন ২৫ জুন বান্দরবান থানা পুলিশের মাধ্যমে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুলকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আইসিইউ না পাওয়ায় নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জুন সকালে তিনি মারা যান।

বাদী শাহ আলম দাবি করেন, মৃত্যুর আগে নুরুল তাঁকে জানান, অপহরণের পর হারিচ্চার ডেবা এলাকায় নিয়ে তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মৃত ভেবে বান্দরবানের সুয়ালক মাঝেরপাড়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর আগে ভাই যাদের নাম বলেছেন, তা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

নিহতের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে উল্লেখ করে শাহ আলম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি মানবেতর অবস্থায় পড়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মামলা করতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল নিয়ে সাতকানিয়া ও বান্দরবান থানার আইনি জটিলতার কারণে প্রথমে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাতকানিয়া থানা মামলা গ্রহণ করে।

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×