ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারুণ্যে ভরা প্রেমের জয়গান

তারুণ্যে ভরা প্রেমের জয়গান
×

আইইউবি থিয়েটারের ‘পদ্মাবতী’

আবু সাঈদ তুলু 

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘পদ্মাবতী’ শিরোনামে বাংলা ভাষায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম আছে। এক. মহাকবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’, অন্যটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’। সম্প্রতি মাইকেলের ‘পদ্মাবতী’ মঞ্চে এনেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (আইইউবি) থিয়েটার। এটি তাদের ২৫তম প্রযোজনা। আইইউবি থিয়েটার গত দুই দশক ধরে কাজ করছে। সম্প্রতি তাদের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘নাট্যবৃত্তের দ্বিদশক’ শিরোনামে নাট্যোৎসবের আয়োজন করে। সেখানেই মঞ্চায়িত হয় ‘পদ্মাবতী’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। এতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাহিনিকে আশ্রয় করে সমকালীন বাস্তবতার নিরিখে ভিন্ন আরেক ‘পদ্মাবতী’ নির্মাণ করা হয়েছে। নৃত্য-গীত-বাদ্য-অভিনয়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারে এক অনবদ্য প্রাণদীপ্ত প্রযোজনা। ফেসবুক, রিলস ও মিডিয়ার যুগে সবাই যখন গা ভাসাচ্ছে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা ধ্রুপদি বাংলা নাটক মঞ্চায়ন করছে; সেটি খুবই আনন্দের। যেখানে নাট্যকলা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি নেওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীও নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন না, সেখানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের তরুণ ছাত্ররা নাট্যদল গঠন করে নাট্যচর্চা করছেন; সেটি খুব বেশি সুখপ্রদ। কিছু তরুণ উদ্যমী ছাত্র ২০০৬ সালে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি থিয়েটারের দলের যাত্রা শুরু করেছিল। হাঁটিহাঁটি পা পা করে এখন ২০ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের অদম্য ইচ্ছাই তাদের দলের প্রাণশক্তি। এ নতুন প্রযোজনায় আইইউবি থিয়েটার মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’ নাটকের ভাব-ভাষাকে নিয়ে নতুন আরেক নাট্য নির্মাণ করেছেন। দেবর্ষি নারদের সূক্ষ্ম কৌশলে রতি দেবী স্বপ্নলোকের দরজা খুলে দেন। সেই স্বপ্নেই প্রথমবার মুখোমুখি হন বিদর্ভ রাজকন্যা পদ্মাবতী ও রাজা ইন্দ্র। দেবতাদের খেলায় জন্ম নেওয়া প্রেম কি এত সহজে পরিণতি পায়? কলিদের ঈর্ষা, ছলনা ও প্রতারণা একের পর এক বিপদের দ্বার খুলে দেয়। রাজসভা, স্বয়ংবর অনুষ্ঠান, রাজপ্রাসাদ, দুর্গ, অরণ্য, আশ্রম পেরিয়ে নিয়তি যেন বারবার পরীক্ষা নেয় প্রেম, বিশ্বাস ও মানবিকতার। স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমারেখা যেখানে বারবার মুছে যায়, সেখানে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় কে? দেবতাদের ইচ্ছা, নাকি মানুষের ভালোবাসা? পৌরাণিক গল্পকে সমকালীন ব্যাখ্যা এমনই প্রশ্ন উত্থাপন করেছে আইইউবি থিয়েটার। নির্দেশক শামীম সাগর জানান, ‘আমরা মূল নাটকের ভাব, চরিত্র ও নাট্যসত্তাকে অক্ষুণ্ন রেখে ভাষাকে কিছুটা সহজ করেছি, যাতে সমকালীন দর্শক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাট্যভাষার সৌন্দর্যের সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে নাটকের গতি, মঞ্চভাষা ও দৃশ্যবিন্যাসকে নতুনভাবে নির্মাণের চেষ্টা করেছি। লোকনাট্যের উপাদান, নতুন সংগীত, পাপেট, দৃশ্যপ্রক্ষেপণ এবং প্রতীকধর্মী মঞ্চ-নির্মাণের সমন্বয়ে একটি সমকালীন নাট্যভাষা গড়ে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’ পদ্মাবতী চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরিন রহমান। রাজ ইন্দ্র কাফিকুর আজিজ বর্ণ, বিদূষক রিফাত হাসান। নাটকের সংগীত করেছেন রাকিবুল হাসান রানা। নাটকটি নৃত্য-গীত-অভিনয়ে জৌলুসপূর্ণ উপস্থাপনা। মঞ্চের পেছনের সাদা সায়াক্লোমায় প্রতিটি নাট্যদৃশ্যের ছবি ফুটে উঠেছে। অভিনেতাদের হাতে ফোক মোটিভ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। মঞ্চে দৃশ্যের সাজেশন ও আলোর কৌশলে মূর্ত হয়ে উঠেছে গল্প। পোশাক ছিল অত্যন্ত কালারফুল। পৌরাণিক গল্পের রাজকীয় ভাবব্যঞ্জনার সঙ্গে সমকালীন সিনেমাটিক আবেগ ও আনন্দ যেন এক হয়ে ধরা দিয়েছে। 

আরও পড়ুন

×