ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলোছায়ার মায়ায়...

আলোছায়ার মায়ায়...
×

সাদিয়া আয়মান

রেজাউল করিম 

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৫ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনেত্রী ও মডেল সাদিয়া আয়মান যেন নিজের মতো করে এগিয়ে চলেছেন। সময়ের সঙ্গে আরও পরিণত হয়েছেন তিনি। নাটক, ওয়েব সিরিজ, সিনেমা ও উপস্থাপনায় নিজেকে মেলে ধরার পাশাপাশি এখন কাজ বাছাইয়ে আরও সচেতন এই অভিনেত্রী। জনপ্রিয়তার চেয়ে অভিনয়ের গভীরতাকেই গুরুত্ব দিয়ে নিজের গল্পটা ধীরে ধীরে লিখে চলেছেন তিনি। আলোচনার পাশাপাশি গুঞ্জনও সামলে নিজের কাজে মনোযোগী থাকছেন সাদিয়া। তারকা অভিনেত্রীকে নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম 

কখনও অভিনয়ে সাফল্য, নতুন চরিত্রের চ্যালেঞ্জ, আবার কখনও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে গুঞ্জন–সব মিলিয়ে গত কয়েক বছর আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। বলছি মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের কথা। ২০১৯ সালে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেত্রী এখন নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। 
প্রায় আট বছরের অভিনয়জীবনে তিনি বুঝেছেন জনপ্রিয়তার পাশাপাশি একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর কাজ। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হয়েছেন তিনি।
এই বেছে কাজ করার মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোতে। এ কারণে কাজগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। কিছুদিন আগে ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিনীত ‘প্রিয় পরিবার’ নাটকটি ১৪ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক দেখেছেন। এর আগে ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ‘সিলভার সাদিয়া’ নাটকটি সাড়া জাগিয়েছে। এতে সাদিয়া মাদ্রাসাপড়ুয়া শান্ত স্বভাবের এক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার গোপন পরিচয় একজন দক্ষ গেমার হিসেবে। বাস্তবে কখনও গেম না খেলেও চরিত্রটির জন্য গেমিংয়ের ভাষা, কি-বোর্ডের ব্যবহার এবং গেম স্ট্রিমিং ভিডিও দেখার মতো প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমে এমন অনেক তরুণ-তরুণীর গল্প উঠে এসেছে, যাদের প্রতিভা যথাযথ সুযোগের অভাবে নিজেদের ঘর বা ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে। কাজটিতে তাঁর লুকের প্রশংসার চেয়ে অভিনয়ের প্রশংসাই বেশি আনন্দ দেয়–এমন কথাও জানিয়েছেন সাদিয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশন নাটকে সাদিয়াকে কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। ফলে দর্শকরা ভেবেছিলেন হয়তো ছোটপর্দা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী। সেই ধারণা বেশিদিন টেকেনি। বরং বিরতির সময়টা তিনি ব্যবহার করেছেন নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার জন্য। দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার সুযোগও পেয়েছেন তিনি।  
চলচ্চিত্রেও ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। ‘কাজলরেখা’ ও ‘উৎসব’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন। বড়পর্দায় নিয়মিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও তাড়াহুড়ো করতে চান না অভিনেত্রী। নতুন সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন বেশ কিছু, তবে সব গ্রহণ করেননি। সাদিয়া আয়মান বলেন, “সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব তো অনেক পাই। কোনো চরিত্র নিজের সঙ্গে মানানসই মনে না হলে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে হচ্ছে। সামনে এখনও অনেক পথ পড়ে আছে। শুধু কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে নিজের অভিনয়সত্তাকে তৃপ্ত করবে–এমন গল্প ও চরিত্রের অপেক্ষায় থাকাই শ্রেয়। তাই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বুঝেশুনে পা ফেলছি।” 
নতুন পরিচয়েও নিজেকে আবিষ্কার করেছেন এই অভিনেত্রী। গত বছরের শেষের দিকে ‘কানেকশন আনলকড’ নামে একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। কিছু শেখা এবং পেশাগতভাবে নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তিনি। 
এদিকে চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘বিষণ্ন মেঘ’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। চয়নিকা চৌধুরীর নির্মাণজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে লেজার ভিশনের বিশেষ প্রযোজনায় নির্মিত এই নাটকে প্রথমবার তাঁর পাশাপাশি একই ফ্রেমে দেখা যাবে জাকিয়া বারী মম, ইরফান 
সাজ্জাদকে। 
এ প্রসঙ্গে সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘চয়নিকা চৌধুরীর নির্দেশনায় ক্যারিয়ারের শুরুতেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। মম আপুর সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতা আনন্দের। অসাধারণ গল্পের কাজটি দর্শকের ভালো লাগবে বলে আশা করছি।’ শিগগিরই এটিএন বাংলায় প্রচার হওয়ার কথা; পরে লেজার ভিশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন।
অভিনয়ের আলো যত বাড়ে, ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে গুঞ্জনের ছায়াও তত দীর্ঘ হয়। সাদিয়া আয়মানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রেম, সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক বাড়াতে নারাজ তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সত্য কখনও চাপা থাকে না; একসময় সামনে আসবেই। তাই ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ করে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করার প্রয়োজন দেখেন না। গুঞ্জনকে অভিনয়জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সাদিয়া আয়মানের ভাষ্য, ‘আপাতত প্রেমের চেয়ে নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মানুষের অনেক পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সবকিছু ইচ্ছামতো হয় না। আল্লাহর পরিকল্পনাই শেষ কথা। সম্পর্কের গুঞ্জনের চেয়ে কাজ, পরিবার ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি ভাবতে চাই।’
ব্যক্তিগত শান্তির জন্যও তিনি সচেতন। শুটিং, পরিবার, নিজের যত্ন–এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসেন। যেসব বিষয় তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাই তো ব্যস্ততার মাঝে ভ্রমণেও নিজেকে খুঁজে নেন সাদিয়া।
 সমুদ্র তাঁর অন্যতম প্রিয় বেড়ানোর জায়গা। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ফুকেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সেখানে বেশ আনন্দময় সময় কাটিয়েছেন। সুন্দর মুহূর্তের ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে দিতে ভোলেননি। সমুদ্রের নীলের পাশে দাঁড়িয়ে যেন নিজের আরেকটি রূপ দেখিয়েছেন তিনি–শান্ত, স্বাধীন এবং নিজের মতো।
সাদিয়া আয়মানের পথচলা এত সহজ ছিল না। শুরুতে পরিবারের দ্বিধা পেরিয়ে যে মেয়েটি বলেছিলেন, তারা যেন তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং এমন কিছু করবেন না, যাতে মা-বাবাকে লজ্জিত হতে হয়–সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ আজকের সাদিয়া। এখন তাঁর পরিচয়েই মা-বাবাকে অনেকে চিনে ফেলেন। মানুষের ভালোবাসা তাদেরও গর্বিত করে।
আলো আর ছায়ার এই যাত্রায় সাদিয়া আয়মান তাই শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন করে খুঁজে নেওয়া এক শিল্পী। গুঞ্জন থাকবে, আলোচনাও থাকবে; কিন্তু তাঁর নিজের কাছে শেষ কথা অভিনয়। সময় নিয়ে পছন্দের চরিত্র বেছে এগিয়ে যেতে চান তিনি। 

আরও পড়ুন

×