‘অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আমার লড়াই’
অনিন্দ্য মামুন
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৩ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভৌতিক গল্পের প্রতি আগ্রহটা পুরোনো। দেশের নানা প্রান্তের পুরোনো বাড়ি, শ্মশানঘাট, বটগাছতলা কিংবা লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা রহস্যময় স্থান–এসব ঘুরে ঘুরে গল্প সংগ্রহ করেছেন অর্থহীন ব্যান্ডের সাইদুস সালেহীন সুমন ও ক্রিপটিক ফেইটের শাকিব চৌধুরী। সেই আগ্রহ থেকেই একসময় বন্ধু জিবরানকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছিলেন ‘ভৌতিস্ট’ নামে রেডিও শো। পরিকল্পনা ছিল ভূত নিয়ে টিভি সিরিজ ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণেরও। নানা ব্যস্ততা ও সুমনের অসুস্থতায় সে স্বপ্ন থেমে ছিল। এক যুগের বেশি সময় পর সেই স্বপ্নই এবার বড়পর্দায় রূপ নিচ্ছে ‘আন্ধার’ নামে। এই অন্ধকারের গল্পকে পর্দায় তুলে ধরছেন নির্মাতা রায়হান রাফী।
‘আন্ধার’ শুধু ভৌতিক গল্প নয়, সিনেমাটিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে এর অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রগুলো নিয়ে। সেই কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছেন সিয়াম আহমেদ। সিনেমায় তাঁকে দেখা যাবে ডিটেকটিভ দেলোয়ার চরিত্রে। সিনেমায় তিনি এমন এক নায়ক, যে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, বিপদে পড়া মানুষের পাশে থাকে–কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা প্রতিশোধের জন্য নয়।
দেলোয়ার মানেই সিয়াম
রাফীর আগের সিনেমাগুলোর নায়কদের মধ্যে বৈচিত্র্য ছিল। ‘পোড়ামন ২’, ‘দহন’, ‘পরাণ’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’ কিংবা ‘তাণ্ডব’– প্রতিটি সিনেমাতেই নায়ককে আলাদা করে নির্মাণ করেছেন তিনি। ‘আন্ধার’-এর দেলোয়ার যেন সেই ধারার নতুন সংযোজন। দেলোয়ারকে নিয়ে রাফীর আগ্রহের জায়গাটা আরও স্পষ্ট হয় তাঁর বক্তব্যে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের গল্পে শার্লক হোমস বা ব্যাটম্যানের মতো নায়ক খুব একটা দেখা যায় না; যে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়বে, অথচ তার পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকবে না। তাই শুটিং শেষ হওয়ার পর রাফীর মনে হয়েছে, ‘দেলোয়ার মানেই সিয়াম’। চরিত্রটিতে সিয়াম চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছেন নির্মাতা। নিজের চরিত্র নিয়ে সিয়ামের বক্তব্যেও সেই প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার জীবনে এমন কিছু চরিত্র আসে, যেগুলো একই সঙ্গে কঠিন ও উপভোগ্য। যেখানে নিজেকে নানা রূপে আবিষ্কারের সুযোগ থাকে। ‘আন্ধার’-এর দেলোয়ারও তাঁর কাছে তেমনই চরিত্র। মজার ব্যাপার, রহস্যের জগতে বেড়ানো এই ডিটেকটিভের নিজেরও আছে একটি ‘আন্ধার’ জগৎ।
শুধু সিয়াম নন
সিনেমাটিতে সিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে বড় তারকাবহর। চঞ্চল চৌধুরী অভিনয় করছেন শমসের চরিত্রে। নাজিফা তুষিকে দেখা যাবে নাদিয়া চরিত্রে। রয়েছেন মোস্তফা মনোয়ার, যিনি অভিনয় করেছেন ইন্সপেক্টর মনোয়ারের চরিত্রে। এ ছাড়া আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত, ফররুখ আহমেদ রেহান, স্বর্ণালী চৈতী ও তানজিকা আমিনও রয়েছেন সিনেমাটিতে। সিয়ামের কাছে এই বহু তারকার উপস্থিতি আলাদা কোনো সমস্যা নয়। বরং গল্পের প্রয়োজনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র থাকাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। সিনেমাটির গল্প শোনার আগে তাঁকে জানানো হয়েছিল, এটি প্রচলিত নায়ককেন্দ্রিক সিনেমা হবে না; একাধিক চরিত্র গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিয়ামের প্রশ্ন ছিল–ইন্সপেক্টর মনোয়ার চরিত্রটি কে করছেন? উত্তর যখন মোস্তফা মনোয়ারের নাম, তখনই তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। সহশিল্পীর অভিনয় ও তাদের একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকেও বিশেষ বলে মনে করেন সিয়াম।
সিয়ামের নতুন পরীক্ষা
রাফীর নির্মাণে তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম। এর মধ্যে দুটিই সুপারহিট। দীর্ঘদিন তাই এই জুটি আবার পর্দায় ফিরুক এ প্রত্যাশা ছিল দর্শকদের মাঝে। তাই চাপটা কৌশলে কাজ করছে নায়ক-পরিচালক উভয়ের মধ্যেই। তাদের কথাতেও তেমন আভাস ছিল। সিয়াম বলেন, ‘আন্ধার বড় বাজেটের, বড় টেকনিক্যাল সাউন্ডের সিনেমা। এটি বাংলা সিনেমায় ভালো একটি স্কেল সেট করে দেবে। রাফী আর আমার একসঙ্গে চতুর্থ সিনেমা। সব মিলিয়ে একটু ব্যতিক্রম হোক, সে চাপটা থাকবেই। তবে সিনেমাটি এত ভালো হয়েছে যে চাপটাপ আর কাজ করছে না।’
অ্যাকশন, রোমান্স কিংবা থ্রিলার–রায়হান রাফীর সিনেমার পরিচিত জগৎ। এবার তিনি ঢুকেছেন অতিপ্রাকৃতের অন্ধকার জগতে। ‘আন্ধার’ তাঁর জন্যও তাই নতুন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় গল্পের উৎস থেকে শুরু করে অভিনয়শিল্পী, নির্মাণশৈলী–সবকিছুতেই বড় আয়োজনের ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। ঈদ ছাড়া পূজা উপলক্ষে সিনেমাটি মুক্তির তারিখ ঘোষণা করে মাথায় তুলে নিয়েছেন আরও বড় চ্যালেঞ্জ।
- বিষয় :
- বিনোদন