ছাত্র সংসদ
ডাকসু নির্বাচনে ব্যালটকাণ্ডে কর্তৃপক্ষের জবাব কী
মাহফুজুর রহমান মানিক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২০:১৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। এ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের পর থেকেই নানামুখী অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রার্থী লিখিতভাবে তাদের অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমাও দিয়েছেন। অভিযোগের ব্যাপারে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করলেও অনেক প্রশ্নের জবাবই মেলেনি। তারা যথাসময়ে প্রত্যেককে জবাব ও সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছে। নির্বাচন ঘিরে গুরুতর অভিযোগ হলো, নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার নীলক্ষেতে অরক্ষিতভাবে ছাপানো
নির্বাচনের আট দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ তোলেন স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আরাফাত চৌধুরী। ফেসবুকে তিনি দাবি করেন, নীলক্ষেতের একটি প্রিন্টিং প্রেসের দোকানে অরক্ষিতভাবে ব্যালট পেপারগুলো ছাপানো হচ্ছিল। নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক শিরোনামে শনিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এর অনেক বিষয়ই উঠে আসে। অরক্ষিতভাবে নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগের সূত্র ধরে নীলক্ষেত গাউসুল আজম মার্কেটে অনুসন্ধান করে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী দল। তারা নীলক্ষেতে অরক্ষিতভাবে ব্যালট পেপার ছাপানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নীলক্ষেতে নয়, সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় উন্নত মানের ছাপাখানায় তৈরি হয়েছে ব্যালট।
ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপা ও ওএমআর মেশিনে গণনা করার টেন্ডার আদাবরের আনজা করপোরেশন পেলেও নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর তথ্য-প্রমাণ দিলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি চীনে থাকায় তাঁর কর্মচারীরা কাজটা করেছে। ডাকসুর মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের ব্যালট যেভাবে অরক্ষিতভাবে নীলক্ষেতে প্রকাশের প্রমাণ সামনে আসছে, তা হতাশাজনক। ডাকসুর মতো স্পর্শকাতর নির্বাচনের দিকে সংবাদমাধ্যমসহ সারাদেশেরই নজর ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও এটি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ব্যালট ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠছে সেগুলো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলারই প্রমাণ।
এবারের ডাকসু নির্বাচন ছিল নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনটি বিশেষ মনোযোগ পায়। এর আগে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট চুরির অভিযোগ ওঠে। তখনকার ক্যাম্পাসের পরিবেশ আমরা জানি। কিন্তু এবারের পরিবেশ অনুকূল থাকলেও ব্যালট নিয়ে এ অভিযোগ হতাশাজনক। এ ব্যাপারে যেসব প্রশ্ন উঠছে তা নির্বাচনের অন্য বিষয়গুলোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অথচ সংবাদমাধ্যমসহ পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নে এবারের ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলেই সবাই দাবি করছেন। তারপরও ব্যালটসহ নির্বাচন ঘিরে যেসব প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর সঠিক জবাব দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এমনিতে পরাজয়ের পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, স্বতন্ত্র প্যানেলের সহসভাপতি প্রার্থী উমামা ফাতেমা এবং বামপন্থি সাতটি দলের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদল ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির যে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি করেছে। তারা বলেছে, এসব অভিযোগ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুনামকে ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
সেজন্যই ব্যালটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি। সমকালের কাছে ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেছেন, যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে জানাবেন। আমরা শিগগিরই তা জানতে চাই।
মাহফুজুর রহমান মানিক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, সমকাল
[email protected]
- বিষয় :
- ডাকসু নির্বাচন
- ব্যালট পেপার
- ব্যালট ছাপানো
