ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দিবস

কণ্ঠস্বর, অনুভূতির গল্প

কণ্ঠস্বর, অনুভূতির গল্প
×

নূরুল হুদা নাঈম

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

আজকের বিশ্ব কণ্ঠ দিবসের প্রতিপাদ্য– আমাদের কণ্ঠের যত্ন নিন। আপনি কখনও কি ভেবে দেখেছেন, একদিন হঠাৎ যদি আপনার কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়? আপনি চাচ্ছেন, কিন্তু কথা বলতে পারছেন না। আপনি নির্বাক, বোবা, তখন কেমন লাগবে? মনে হবে, যেভাবেই হোক, যত কিছুর বিনিময়েই হোক, যদি কণ্ঠস্বরটা ফিরে পাওয়া যায়, তা পেতে কোনো কুণ্ঠা বোধ করবেন না নিশ্চয়। তাহলে সময় থাকতে আসুন, সতর্ক হই। আমরা জেনে নিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস, যাতে আমাদের কণ্ঠের যত্ন নিতে পারি সহজেই। 

কণ্ঠই আমাদের পরিচয়, অনুভূতির ভাষা, ভালোবাসা, প্রতিবাদ ও প্রার্থনার সেতুবন্ধ। শিশুর প্রথম কান্না থেকে শুরু করে মায়ের স্নেহভরা ডাক, শিক্ষকের জ্ঞানদান, চিকিৎসকের আশ্বাস– সবকিছুর মাঝেই আছে কণ্ঠের স্পর্শ। এই অমূল্য কণ্ঠস্বরের যত্ন আমরা কতটা নিচ্ছি?

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা অযত্নেই কণ্ঠকে ব্যবহার করি– অতিরিক্ত কথা বলা, চিৎকার, ধূমপান, ধুলাবালি ও দূষণের মধ্যে থাকা, কিংবা ঠান্ডা-গরমের অবহেলা। ধীরে ধীরে কণ্ঠ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, স্বর ভেঙে যায়। কখনও কখনও স্থায়ী ক্ষতির দিকেও এগিয়ে যায়।

কণ্ঠ শুধু একটি শব্দ নয়; আমাদের আত্মার প্রতিধ্বনি। যখন কণ্ঠ হারিয়ে যায়, তখন শুধু শব্দই হারায় না; হারিয়ে যায় আত্মপ্রকাশের শক্তি, অনুভূতির রং, জীবনের ছন্দ। বিশ্ব কণ্ঠস্বর দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কণ্ঠের যত্ন নেওয়া মানে নিজের যত্ন নেওয়া। কণ্ঠেরও বিশ্রাম দরকার। প্রয়োজন ছাড়া চিৎকার করবেন না। পর্যাপ্ত পানি পান করুন; ধূমপান ও ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করুন। দীর্ঘদিন স্বর ভাঙা থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কণ্ঠকে ভালোবাসা, যত্ন নেওয়া ও সুরক্ষিত রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অস্তিত্ব প্রকাশের সম্ভবত সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই কণ্ঠ। সবার জীবনেই কণ্ঠের গুরুত্ব অপরিসীম। ভাবুন তো, একজন মা যদি সন্তানের নাম ধরে ডাকতে না পারেন; একজন শিক্ষক যদি ক্লাস নিতে না পারেন, কিংবা একজন ডাক্তার রোগীকে আশ্বাস দিতে না পারেন– কতটা অসহায় লাগে! 
তাই কণ্ঠকে ভালো রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া।

দীর্ঘ সময় একটানা কথা বললে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া– এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় সুরক্ষা দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে গলার ভেতরের স্বরযন্ত্র আর্দ্র থাকে। ফলে ক্ষতি কম হয়। ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলা, খুব ঠান্ডা বা খুব গরম খাবার কম খাওয়া– এসবও কণ্ঠকে সুস্থ রাখে। আর যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলা বসে থাকে বা ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কণ্ঠের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি যেখানে দিবসটির প্রতিপাদ্য, সেখানেই আমাদের জোর দিতে হবে। কণ্ঠ আমাদের ব্যক্তিত্ব, অনুভূতি ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। শিক্ষক, উপস্থাপক, সাংবাদিক, শিল্পী ও জনসম্পৃক্ত পেশাজীবীদের জন্য কণ্ঠের যত্ন আরও জরুরি। কণ্ঠ ভালো রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত পানি পান, অযথা গলা চড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং সর্দি-কাশি বা গলা বসে গেলে চিকিৎসা করাতেই হবে।
মনে রাখতে হবে, সুস্থ কণ্ঠ শুধু সুন্দর কথা বলার জন্য নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপন ও আত্মপ্রকাশের জন্যও অপরিহার্য।

ডা. নূরুল হুদা নাঈম: নাক-কান-গলা, হেড-নেক বিশেষজ্ঞ, লেজার সার্জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আরও পড়ুন

×