ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সংসদে আলোচনা ছাড়া পাস ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ

সংসদে আলোচনা ছাড়া পাস ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৫৭ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২২

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনে আলোচনা ছাড়াই আজ বুধবার সংসদে পাস হয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইনের বিল। ২৮ মিনিটে পাস হওয়া বিলটিতে বিরোধী দল সংশোধনী প্রস্তাবের উত্থাপনেরও সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। বিনিয়োগের স্বার্থে বিলটি দ্রুত পাস প্রয়োজন বলে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিশ্রুতি দেন, পরবর্তীতে সংশোধনী প্রস্তাব আনা যাবে। তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেন, প্রতিশ্রুতি যেন রক্ষা করা হয়। 

এরপর বিলটি বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যের (এমপি) কণ্ঠ ভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত হবে। এই আইনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন রহিত হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন (বেজা), বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষসহ (বিপিপিএ) কয়েকটি সরকারি সংস্থা একীভূত করে গঠন করা হবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। 

২৮ মিনিটে বিল পাস
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে বিলটি উত্থাপন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন আপত্তি করে বলেন, বিরোধী দলের এমপিরা বিলের কপি পেয়েছেন কিছু সময় আগে। কেন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, তিন দিন আগে কপি দেওয়া হয়নি? বিরোধী দল কীভাবে বিলের কপি ছাড়া কীভাবে মতামত দেবেন। বিরোধী দল সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, তিনি সময় মার্জনা করেছে। এই পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্পিকার মার্জনা করলে বিল উত্থাপন করার বিধান রয়েছে। 

তখন আবারও আপত্তি জানান নাজিবুর রহমান। এই পর্যায়ে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, সময় না দিয়ে বিল পাস হলে বিরোধী দল কীভাবে সংশোধনী প্রস্তাব দেবে? 

এই পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা দাঁড়িয়ে বলেন, প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু আইন তড়িঘড়ি করে পাশ করা হয়েছিল সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণে। সেই সময় বলেছিলাম ভবিষ্যতে যেন সব কিছু প্রাপ্যতা অনুযায়ী আসে। এখানে শুধু অধিকারের প্রশ্ন। এটা দায়িত্বেরও ব্যাপার। আমরা অধিকারে ছাড় দিলাম, কিন্তু দায়িত্বে আমাদের অবহেলা হয়ে গেল।  

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা সঠিক বলেছেন। তবে সংসদ অধিবেশনের শেষ দিন হওয়ায় এবং বিলটি দ্রুত পাস প্রয়োজন থাকায় সংশোধনী গ্রহণ করা যাচ্ছে না। বন্যা পরিস্থিতিতে নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে এমপিদের দাবি রয়েছে বুধবারের মধ্যে অধিবেশন শেষ করার। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সদস্যরা যেসব ধারায় সংশোধনী আনতে চান, তা পরবর্তীতে অধিবেশনে আনা হলে, যৌক্তিক হলে তা গ্রহণ করা হবে। 

তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মহান জাতীয় সংসদে, প্রত্যাশা করছি তা  রক্ষা করবেন। 

এরপর সংসদে আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস হয়। 

আইনে যা রয়েছে
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে- দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, শিল্প স্থাপনে দ্রুত সময়ে সেবা দিতে পুরনো আইন রহিত করে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনে আইন করা প্রয়োজন। বিলে বলা হয়েছে, সরকারের নিয়োগ করা একজন চেয়ারম্যান এবং সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষকে সাধারণ বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর মনোনীত একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকবে গভর্নিং বোর্ড। অর্থ; পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য, আইন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ ১৫ সদস্যের বোর্ডে সদস্য হবেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও।  

বিলে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলসহ ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স, অনুমোদন ও সেবা প্রদানের পদ্ধতি ও সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। অনুমোদন কাঠামো নির্ধারণ ও ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে সহজ অনুমোদন। অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থায়ন সহজীকরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড গঠন, সহজ শর্তে অর্থায়ন, ক্রেডিট গ্যারান্টি, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার বিকাশ, আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, কর অবকাশ এবং স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কৃষিজমির সুরক্ষা, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

আরও পড়ুন

×