ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভোটে হস্তক্ষেপ নয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে: ওবায়দুল কাদের

ভোটে হস্তক্ষেপ নয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে: ওবায়দুল কাদের
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ০৭:৩৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপ ছাড়া ও নিরপেক্ষ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পেতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন।

সরকারের সব এজেন্সি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানদেরও প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, এই নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন সরকারের কেউই না করেন। এ ব্যাপারে 'ক্লিয়ার ম্যাসেজ' সবাইকে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

রোববার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে মটর চালক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যতো নালিশ, যতো অভিযোগ। নির্বাচন আর আন্দোলনে পারে না, এখন শুধু নালিশ আর নালিশ। নির্বাচন কমিশনে তাদের একজন স্থায়ী প্রতিনিধি আছে। বিএনপির এই নালিশের কোনো বাস্তবতা নেই।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সংশয় প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে বিদেশে যাওয়ার সময় সরকারের সব সংস্থার প্রধানদের বলেছেন এই নির্বাচনে তিনি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ও বাড়াবাড়ি চান না। কোনো এজেন্সি কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ যেন না করে। সেই ব্যপারে ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কাজেই এখানে সংশয়ের কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনা বলেছেন নির্বাচনে জনগণ যা চায় তাই হবে। এতো কাজ করে জনগণ যদি ভোট না দেয়- তাহলেও জোরাজুরি ও জবরদস্তির মাধ্যমে জনসমর্থন আদায় করে ক্ষমতায় থাকার কোনো ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি বলছে, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সরকারি সংস্থাকে বাধ্য করে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি আন্দোলনে ফেল, নির্বাচনেও ফেল। তারা ফেলের মধ্যেই আছে, তাদের ভাগ্যে বিজয় কবে আসবে জানি না। নেতিবাচক রাজনীতির কারণে মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জন বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতির উপর সংকটের যে কালো ছায়া ফেলেছে, তা থেকে বিএনপির নিস্তারের কোনো উপায় নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলকেও একই মেসেজ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে যেতে বলেছেন। জনগণও যাকে ভোট দেবেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন। কাজেই সরকারে পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পরিষ্কার, আগেও এটা বলেছে এবং এখনও স্পষ্টভাবে বলেছে।

তিনি বলেন, আসলে নির্বাচনে বিএনপির অবস্থা কী হবে- সেটা তারা বুঝে গেছে। এই নির্বাচনের বিজয়ের ব্যাপারেও তারা যথেষ্ঠ সন্ধিহান। বিজয়ী হতে পারবে না বলেই তারা আজ বিভিন্ন ধরনের নালিশ করার পথ বেছে নিয়েছে। তারা যতই অপপ্রচারই করুক, দেশের মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকেই চায়।

বাকশাল নিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের বক্তব্যের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, এদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সংকটময় মূহূর্তে জাতির পিতা সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে একটা দল করেছিলেন। যার নাম হচ্ছে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ সংক্ষেপে বাকশাল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কৃষক শ্রমিক যুক্ত হয়েছে, এটাই অনেকের গাত্রদাহের কারণ। মওদুদ আহমেদ কী ভুলে গেছেন- বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামও ছিল। ভুলে গেছেন, এটা কোনো একদলীয় ব্যবস্থা নয়।

তিনি বলেন, বাকশাল ছিল জাতীয় দল কৃষক শ্রমিক মেহনতি শোষিত মানুষের পক্ষের একটা সুশৃঙ্খল জাতীয় দল। এটা ছিল একটা সাময়িক ব্যবস্থা। অপরাধ একটাই কৃষক আর শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুনর্বিন্যাস করেছেন, এটাই তাদের গাত্রদাহ। এটা আগেও ছিল, এখনও আছে।

কাদের বলেন, অপরাজনীতির হোতা বিএনপি নামের অপশক্তি যেন আর ক্ষমতায় না আসতে না পারে- সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এই অপশক্তি জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্টপোষক। এরাই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অপরাজনীতির সূচনা করেছে। দেশের মানুষ তাদের নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অপশক্তি আবারও ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশ আবারও অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। তারা এদেশে রক্তস্রোত বইয়ে দেবে। এরা আবারও ক্ষমতায় এলে এদেশ বিশ্বে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে চ্যাম্পিয়ন হবে। কাজেই এই দল জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে চক্রান্তের চোরাই পথ দিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, গাড়ি চালকদের কাছে আমি মনের কষ্টের কথা বলছি। প্রতিদিন আমি এখন দুঃখ নিয়ে ঘর থেকে বের হই। পত্রিকার পাতায় দুর্ঘটনার খবর দেখে বের হই। একটি পরিবারের সবার এক সঙ্গে চিরজীবনের জন্য প্রাণের প্রদীপ নিভে যায়। কত পরিবারে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে, সদ্যবিবাহিত স্বামী-স্ত্রী লাশ হয়ে যাচ্ছে। বাবা মা মারা যাচ্ছে, এসব খবর আমাকে খুব কষ্ট দেয়। সড়কমন্ত্রী হিসেবে দুর্ঘটনার দায় আমি এড়াতে পারি না।

আওয়ামী মটর চালক লীগের সভাপতি আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর ও মটর চালক লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×