ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

জামালপুর

১০ হাজার টাকা ছিনতাই করতে অটোরিকশাচালককে হত্যা

১০ হাজার টাকা ছিনতাই করতে অটোরিকশাচালককে হত্যা
×

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০২:৩৪

‘মাত্র ১০ হাজার টাকা ছিনতাই করতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন নাহিদুল ও তার সহযোগীরা। ছিনতাইয়ের একপর্যায়ে নায়েব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটির বিভিন্ন অংশ বিক্রি করে দেন তারা।’

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামালপুর পুলিশ সুপার (পিবিআই) পংকজ দত্ত। অটোরিকশা চালক নায়েব আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানান পিবিআইপ্রধান। বলেন, এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মূল অভিযুক্ত মো. নাহিদুল ইসলাম (৩০)। এছাড়া চোরাই অটোরিকশার যন্ত্রাংশ কেনা ও পরিবহনের অভিযোগে সোলাইমান কবির (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), মো. আব্দুল কাদের (৫৬), মো. রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬)। 

সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে পংকজ দত্ত জানান, গত ২১ জুন ভোরে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন অটোরিকশাচালক নায়েব আলী। পরে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকার একটি ধানক্ষেতে লাগেজবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন মেলান্দহ থানায় নিখোঁজের জিডি করার পর ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার ভোরে মূল অভিযুক্ত নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

নাহিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই অটোরিকশার যন্ত্রাংশ ক্রয় ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার এবং অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, মাত্র ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন মেটাতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন নাহিদুল ও তার সহযোগীরা। ছিনতাইয়ের এক পর্যায়ে নায়েব আলীকে হত্যা করেন। পরে অটোরিকশাটির বিভিন্ন অংশ বিক্রি করে দেন তারা।

গ্রেপ্তার নাহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

জামালপুর পুলিশ সুপার (পিবিআই) পংকজ দত্ত বলেন বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×