ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

তারেকের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সব নিবন্ধিত দলের পুনর্নিবন্ধন চাইলেন ইশরাক

তারেকের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সব নিবন্ধিত দলের পুনর্নিবন্ধন চাইলেন ইশরাক
×

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইশরাক হোসেন। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:০২ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:০৮

নতুন দলের নিবন্ধন তালিকায় নিজেদের দল ‘আমজনতার দল’ না থাকায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশনে রয়েছেন দলটির সদস্যসচিব তারেক রহমান। তার প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এসে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন ইসির নিবন্ধনে থাকা সব রাজনৈতিক দলের পুনর্নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন। 

আজ রোববার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর ইশরাক বিষয়টি নিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারেক রহমানের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন না দিলে কোন কোন দল পূর্ণ শর্ত পূরণ করেছে প্রত্যেকটির অডিটেড রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। ইসির নিবন্ধনে থাকা ৫৭টি রাজনৈতিক দলের খোঁজ নিলে দেখা যাবে অনেক রাজনৈতিক দল আসলে দলই না। তাদের কোনো কর্মকাণ্ড আছে কিনা, তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে কিনা, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনগণের জন্য তারা কি করতে চায়, তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো রয়েছে কিনা, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে কিনা, এই রকম অনেকগুলো বিষয় চলে আসে। আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের পুনর্নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালু হোক সেটি চাই। তার মাধ্যমে আসলেই বাছাই করা হোক যে, কারা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য এবং কারা ভুঁইফোড় রাজনৈতিক দল। এসব দলকে ক্ষমতাসীনরা যখন যে যার সুবিধামত প্রতিষ্ঠা করেছে। এজন্য আমি তারেক রহমানের সঙ্গে সহমর্মিতা জানাতে এসেছি। তার পাশে সহযোদ্ধা হিসেবে রয়েছি এবং আমরা জোরালো দাবি জানাচ্ছি- অবিলম্বে তার দলকে নিবন্ধন দিতে হবে।’

ইশরাক বলেন, ‘আমরা দেখেছি সরকার কোন কোন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি আসলে গেট খুলে তাকে রিসিভ করার জন্য চলে আসে। আবার হাজার হাজার মানুষ দিনের পর দিন রাস্তায় বসে রোদে পুড়ে মরলেও এ সরকার কর্ণপাত করে না। এইটার আমি নিজেও একজন ভিক্টিম ছিলাম। কেন আজকে তারেক রহমানের সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে, আমরা জোরালোভাবে এটার সমাধান চাই ‘ 

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান বলছেন যে, দুই ছাত্র উপদেষ্টার কারণে নাকি তার দলকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না।’

আপনি তার মন্তব্যের সঙ্গে একমত কিনা? জানতে চাইলে বিএনপি এ নেতা বলেন, ‘এটা আমি অস্বীকার করব না, উড়িয়ে দেওয়ারও কোনো সুযোগ নাই। কারণ তিনি (তারেক) যথেষ্ট সমালোচক ছিলেন। এই সরকারের বিশেষ করে এমন একটা সময় গেছে, যখন বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের সমালোচনা করা মানে ওই যে শেখ মুজিবের নাম নেওয়া যাবে না এ ধরনের একটা পরিস্থিতি ছিল। সেই সময়ও তারেক রহমান সমালোচনা করে গেছেন, সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলেছেন। তাই এটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের রাজনৈতিক শক্ত প্রতিপক্ষ দাঁড়ায় যায় কিনা। যেহেতু তারা সমবয়সী একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম থেকে এসেছে। সেটি একটি কারণ হতে পারে।’ 

নিজের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও ৪ নভেম্বর থেকে দল নিবন্ধনের দাবিতে অনশনে রয়েছেন তারেক রহমান। ওইদিন চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। নিজের দলের নাম নিবন্ধন তালিকায় না থাকায় সেদিনই অনশনে যান তারেক রহমান।

আরও পড়ুন

×